ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

অবশেষে শরণখোলার‘বাঘ হাবিব’ আটক

Published : Saturday 29-May-2021 22:33:10 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০০:৩০:৩৭ am

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বাগেরহাটের শরণখোলায় বাঘ হাবিব (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বাঘ শিকার করাই তার নেশা। গত ২০ বছরে বিভিন্ন  কায়দায়  সুন্দরবনের প্রায় ৭০টি বাঘ হত্যা করেছে সে এমন গুজব রয়েছে এলাকায়। তার নামে মামলা রয়েছে ৯টি। মাথার উপর  এই মামলার পাহাড় থাকলেও সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি হত্যার নেশা কাটছিল না হাবিবের। শিকারের নেশা থেকে তাকে ফেরাতে পারেনি কেউ। অবশেষে (শুক্রবার) রাতে পুলিশ তাকে আটক করেছে।

পুলিশ জানায়, হাবিব দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন। শুক্রবার রাতে তাকে উপজেলার মধ্য সোনাতলা গ্রামের রফিকুলের বাড়ি হতে আটক করা হয়। তিনি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের মধ্য সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা সাবেক বনদস্যু কদম আলী তালুকদারের ছেলে। ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন হাবিব। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও বন্যপ্রাণি শিকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তার ছেলে হাসান (২০) ও জামাই মিজান (২৫) এর অন্যতম। তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অপরদিকে, ৭০টি বাঘ হত্যার হোতা হাবিবের নামে মামলা রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটিতে রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তবে, বছরের বেশির ভাগ সময় বনেই সুন্দবরেনই কাটান হাবিব ।

স্থানীয়রা জানায়, ছাগল কিংম্বা মুরগির মাংসের সাথে বিষ মিশিয়ে বনের যে সব এলাকায় বাঘের বিচরণ ওই সকল এলাকায় তা রেখে দেন। বাঘ ওই বিষ মেশানো মাংস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে বাঘ শিকার করেন তিনি।  এছাড়া ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার এবং কুমির শিকার করেন হাবিব। এ বিষয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন  এলাকার এক (সিপিজি) সদস্য বলেন, সুন্দরবনের বাঘ-হরিণ শিকার করা হাবিবের পেশা। প্রায় বিশ বছর ধরে এই কাজ করছে সে। তার নামে অনেক মামলা রয়েছে। কোনো ভাবে তাকে শিকার থেকে ফেরানো  যাচ্ছে না এবং তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে ছেলে ও জামাই।  তার বাবাও এক সময় সুন্দবনের দস্যু ছিলেন। সুন্দরবনসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সহ-সভাপতি এম ওয়াদুদ আকন বলেন, হাবিব খুবই ভয়ঙ্কর লোক। তার গোটা পরিবার এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বাঘ শিকারি হাবিব বন বিভাগ ও পুলিশে কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। তার নামে  ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধে বন বিভাগের সাতটি এবং  আদালতে একটি। শরণখোলা থানার (ওসি) মো. সাইদুর রহমান  জানান, হাবিবের নামে থানায় তিনটি ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।