ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে সাগরী খাতুন ওরফে বুলবুলি (৩২) নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাত সাড়ে সাড়ে ১১ টার দিকে সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন স্বামী শিমুল হোসেন।
নিহত সাগরী খাতুন সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ইন্তাজ বিশ্বাসের মেয়ে। ছয় বছর আগে একই ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শিমুল হোসেনের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেন সাগরী খাতুন। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে।
নিহতের বাবা ইন্তাজ আলী বিশ্বাস জানান, কয়েকদিন আগে শিমুল তার মেয়েকে মারধর করলে বুলবুলি বাবার বাড়িতে চলে আসে। পরে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে প্রায় তিন দিন আগে আবার তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় শিমুল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘গতরাতে আমার মেয়েকে কুপিয়ে আহত করার পরেও শিমুলের পরিবারের কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেনি। প্রতিবেশিরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। রাত ৩টার দিকে আমার মেয়ের ভাসুর রাজু মোবাইলে আমাকে ঘটনা জানায়। তারপর আমরা হাসপাতালে আসি। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন-ওই নারীকে তার স্বামী পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করলে স্থানীয়রা পুলিশের সহযোগিতায় রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী শিমুল হোসেন পলাতক রয়েছেন। মরদেহের সুরতহাল তদন্ত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। অভিযুক্ত স্বামীকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার সময় মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিমুল হোসেনের বিরুদ্ধে গোয়ালপাড়া বাজারে কয়েকমাস আগেও এক ভ্যানচালক ও তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলা রয়েছে।