ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

মজুদদারদের দখলে মাগুরার পাটের বাজার

Published : Tuesday 24-August-2021 22:45:39 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১৪:০৭:৫০ pm

এস আলম তুহিন, মাগুরা  : মাগুরায় পাটের বাজার অবৈধ মজুদদারদের দখলে চলে গেছে। পাটের ভরা মৌসুমে প্রকৃত পাট ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত পাট কিনতে পারছেন না। গত বছর এ সময় জেলার পাট বাজারগুলো ছিল জমজমাট। বর্তমানে জেলায় কিছু অবৈধ পাটের মজুদদাররা দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকের বাড়ি থেকে স্বল্প মূল্যে পাট ক্রয় করে মজুদ করছে বলে অভিযোগ করেছেন পাট ব্যবসায়ীরা। ফলে পাটের বাড়তি দাম পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকরা। বাজারে বর্তমানে শ্যামলা পাট ৩ হাজার ১শ’ টাকা, মিল শার্ট পাট ২ হাজার ৯শ’ টাকা ও অন্যান্য পাট ২ হাজার ৬শ’ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাগুরা নতুন বাজারের লাইন্সেসধারী পাট ব্যবসায়ী বিশ্বাস টের্ডাসের সত্ত্বাধিকারী আমিনুর রহমান বলেন, আমরা পাটের বৈধ লাইন্সেসধারী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে পাটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। বর্তমানে পাটের ভরা মৌসুমে আমরা পাট কিনতে পারছি না। কৃষকরা এখন হাটে পাট নিয়ে আসছে না। গত বছর এ সময় পাটের বাজার ছিল খুবই জমজমাট। দামও ছিল ভালো। বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি ছিল। বর্তমানে উঠতি কিছু অবৈধ মজুদদারদের দখলে চলে গেছে পাটের বাজার। তারা কৃষকের বাড়ি বাড়ি থেকে পাট ক্রয় করে  নিজেদের  পাটের গুদামে মজুদ করছে। বাজার যখন চড়া হচ্ছে ঠিক তখন তারা আমাদের নিকট বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত পাটের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি বাজার তদারকির ব্যবস্থা থাকত তাহলে এসব অবৈধ মুজদদারদের দৌরত্ব কিছুটা কমতো।
নতুন বাজারের অন্য পাট ব্যবসায়ী উত্তম কুমার জানান, আমি পাট ও ভূমিমালের ব্যবসা করি। বর্তমানে পাটের বাজার খুবই মন্দা। আমি আশানুরূপ ভাবে পাট ক্রয় করতে পারছি না। সপ্তাহে ২ দিন হাট। এ হাট বারে পাটের বাজার থাকতো জমজমাট কিন্তু কিছু উঠতি মজুমদারদের দখলে চলে গেছে পাটের বাজার। আমরা প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে পাট ক্রয় করতে পারছি না। কৃষক পাট নিয়ে আর হাটে বিক্রি করতে আসছে না। তাই পাটের ব্যবসায়ীরা রয়েছে বিপাকে। আমাদের প্রতিটি গুদামে নেই পর্যাপ্ত পাট মজুদ। ফলে এবার মিলে পাট দেওয়া নিয়ে আমরা রয়েছি শঙ্কিত।
মাগুরা পাট ও ভুসিমাল সমিতির সভাপতি জানান, এবার পাটের বাজার জমছে না। হাটে পর্যাপ্ত পরিমানে পাট না আসায় পাটের ব্যবসায়ীরা পাট ক্রয় করতে পারছেন না। পাটের  কিছু উঠতি মজুমদারদের দৌরাত্ব আমরা লক্ষ্য করছি। এ সব মজুদদারদের নেই কোনো লাইন্সেস, নেই কোনো কাগজপত্র। অথচ তারা নেপথ্যে চোখের আড়ালে থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং পরবতীতে সব উঠতি ব্যবসায়ীদের  বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলতি বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ১১ হাজার ৫০ হেক্টর, শ্রীপুরে ১০ হাজার ৮৫ হেক্টর, শালিখায় ৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।  
 



আরও খবর