ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

ইট ভাটার চাপে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডুমুরিয়ার প্রবহমান হরি নদী

Published : Friday 13-August-2021 23:07:32 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ২২:৩২:৪৯ pm

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া : দখল ও দুষণের ফলে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে  খুলনা ডুমুরিয়ার এক সময়কার প্রবল খর¯্রােতা হরি নদী। পাল্লা দিয়ে খর্ণিয়া এলাকার কতিপয় ইট ভাটা মালিক হরি নদী দখলে মেতে উঠেছে। নদীর চর দখল করে ক্রমন্বয় তারা ভাটার জায়গা প্রসারিত করছে। নদীর বুকে বাঁধ দেয়ার কারণে ¯্রােতের গতিপথে ব্যাপক বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দ্রুত পলি ভরাট হয়ে এক সময়কার প্রবল খর¯্রােতা হরিনদী ক্রমাগত সঙ্কীর্ণ হয়ে প্রবহমানতা হারাচ্ছে।
হরিনদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর ও খুলনা জেলার একটি নদী। এ নদী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান মুক্তেশ^রী টেকা নদী হতে উৎপত্তি। নদীর জলধারা খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে হাপরখালী নদীতে নিপতিত হয়েছে। ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই নদী সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাবে প্রভাবিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ নদী তার যৌবন হারাতে বসেছে। আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে খর্ণিয়া এলাকার কিছু ইটভাটা ব্যবসায়ী নদীর চর দখলে মেতে উঠেছে। খর্ণিয়া বাজার সংলগ্ন খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশের একটি ইটভাটা প্রায় এক যুগ ধরে নদী দখল করছে। নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে সেখানে পুকুর সৃষ্টি করে পলি ভরাট করছে, আর সেই পলি কেটে তা দিয়ে ইট প্রস্তুত করছে। খর্ণিয়া ব্রীজের উপর দাঁড়ালে চোখে পড়বে নদীর বুকে অসংখ্য মানবসৃষ্ট পুকুর। চারিদিকে চলছে নদীর চর দখলের প্রতিযোগিতা। ভদ্রা ও হরি নদীর ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর অধিকাংশ ইটভাটা নদীর জায়গা দখল করে বসে আছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম বলেন, হরী নদী এক সময় ব্যাপক গভীর এবং অনেক চওড়া ছিলো। এখন তা তিন ভাগের এক ভাগ আছে, আর দুই ভাগ মারা গেছে। ইট ভাটা মালিকরা দখল করার কারণেই মূলত নদীর এ অবস্থা হয়েছে। নদীতে পলি জমাট হচ্ছে আর ইট ভাটার দখলে চলে যাচ্ছে। নদী ভরাটের কারণে আমাদের সিংগার বিল, বিলখুকসি, ভায়নার বিলে জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে।   
যেভাবে ভাটা মালিকরা নদী দখল শুরু করেছে, তাতে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে হরি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। নদীর গতিপথে বাঁধা সৃষ্টির কারণে খর্ণিয়া-শোলগাতিয়া-ভদ্রদিয়া সড়কসহ বাজারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ নদী খননের দাবী করছেন এলাকাবাসী।  
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, এটা নিয়ে আমাদের একটা টেকনিক্যাল কমিটি হয়েছে, যশোরের ভবদহ এবং খুলনার ডুমুরিয়া নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। এটা অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষা শুধু। দুই জেলার সমন্বিতভাবেই করা লাগবে। নদী কাটলে আবার যাতে ভরে না যায় সেই রকম পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। ওখানে বড় একটা স্ট্রাকচার করে পলি আটকানো একটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের। নদীর অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে তিনি বলেন, খর্ণিয়া এলাকায় নদীর চর দখলীয় ইটের ভাটাগুলোর একটা লিস্ট করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং এটার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।  



আরও খবর