ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ছুটির দিনে জমজমাট ঈদ বাজার

Published : Friday 07-May-2021 21:44:03 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০১:২২:০০ am

মারুফ কবীর:
ছুটির দিনে ঈদের কেনাকাটা করতে শহরের বিভিন্ন মার্কেটে মানুষের ঢল নেমেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের শুরুর দিকে জনসমাগম ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের যে সরব ভূমিকা ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। মার্কেটলোতে দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আর পুলিশ যেন নীরব হয়ে গেছেন। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। আর বাকি অল্প কয়েকদিন। এমন মোক্ষম সময়ে ছুটির দিনে যশোরে পুরোদমে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। শুক্রবার  শহরের বিপনী বিতাণগুলোতে গিয়ে দেখা যায় দোকানিদের ব্যস্ততা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। এদিকে ক্রেতারাও কিনছেন এবং ছুটছেন এক শপিংমল থেকে অন্য দোকান-শপিংমলে। ফুটপাতসহ সব খানেই ক্রেতাদের ভিড়। সবার হাতে হাতে শপিং ব্যাগ। সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা যায় পোশাক, প্রসাধনী, জুতা কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলা ভিত্তিক বাস চালু হওয়ায় উপজেলা থেকে ক্রেতা এসেছেন বাজারে। এরই মধ্যে চাকুরিজীবীরা বেতন-বোনাস পেয়ে গেছেন। তারপর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় আজ (গতকাল) বাজারে বেশী ভিড়। একারণে বেশীরভাগ ব্যবসায়ীরা আগেভাগে দোকান খুলেছেন।
দোকানী সাজিদ হোসেন জানান, এতোদিন নারী ক্রেতাই বেশী ছিল, শুক্রবার হওয়ায় আজ (গতকাল) প্রচুর পুরুষ ক্রেতা এসেছেন এবং কেনাকাটা করছেন। তিনি আরও জানান, আজ (গতকাল)  যারা মার্কেটে আসছেন এবং কেনাকাটা করছেন তারা অধিকাংশ চাকুরজীবী।  ছুটির দিন হওয়ায় চাকুরিজীবীদের ভিড় ছিল বেশি।
ফুটপাথের দোকানেও ছিল রমরমা কেনাবেচা। বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত ছিল মার্কেট এবং ফুটপাথ।  প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও কেনাকাটা করছেন সব শ্রেনীর মানুষ। ঈদের কেনাকাটায় পোশাক, গহণার সঙ্গে স্মার্টফোনও যোগ হওয়ায় ভিড় বেড়েছে শহরের মোবাইল শোরুমে। এছাড়া কোকারিজ দোকানে ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।
মুরাদ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, সপ্তাহের অন্যদিন অফিস থাকায় এখন পর্যন্ত কারো জন্যই কিছু কিনতে পারিনি। তাই ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে ছুটির দিনে তাদের ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। মেয়ে ও ছেলের জন্য কেনাকাটা শেষ হলেও স্ত্রীর জন্য কিছু কিনতে পারিনি। মুরাদ হোসেনের ছেলে ৮ বছরের রায়হান জানায়, বাবা আমার সব কিনে দিয়েছে। রায়হান ঈদের জন্য কি কি কিনেছো জানতে চাইলে বলে, পাঞ্জাবি, প্যান্ট, খেলনা। ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন ডালিয়া। তিনি তার স্বামী ও সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করেন। দু’জনই চাকরিজীবী হওয়ায় শুক্রবার ছাড়া তাদের সময় নেই। এ কারণে শুক্রবারকেই তারা ঈদ শপিংয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন। বান্ধুকে নিয়ে এসেছেন রুমেল খান। তারা দু’জনেই মোবাইল ফোন পছন্দ করছেন। ঈদে পোশাকের পাশাপাশি নিজের জন্য মোবাইল ফোন কিনেছেন তিনি।
এইচ এমএম রোডের শিশু পোশাকের দোকান ডরেমনের প্রোপাইটর নাজমুল ইসলাম রিপন বলেন,  শিশু পোশাকের বিক্রি ভালো। কাষ্টমার যারা আসছেন তারা বলছেন আমরা বড়দের না হলেও অন্তত শিশুদের জন্য সাধ্যের মধ্যে পোশাক কিনছি।
যশোর কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের হ্যাভেন ড্রেসের প্রোপাইটর সুমন বলেন, বাস চালু হওয়ায় ক্রেতা বাজারমুখি হয়েছেন। তারপর ছুটির দিনে হওয়ায় ব্যবসা ভালো হয়েছে।
শাড়ি ব্যবসায়ী পাড় আঁচলের প্রোপাইটর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা বলেন, মুলত রোজার শেষের দিকে শাড়ি বিক্রি ভালো হয়। করোনার কারনে পরিস্থিতি ভালো না হলেও স্বাস্থ্যবিধী মেনে কোনাবেচা করছি।
এইচএমএম রোডের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান লবি বলেন, পুলিশের তদারকির মধ্যেও ছুটির দিনে ক্রেতাদের ভিড় ছিলো প্রচুর আর বিক্রি হয়েছে ভালো।  সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির নেতা শফিকুর রহমান আজাদ বলেন, শপিংমলগুলোতে অন্যান্য বাজারের মতো প্রচুর ভীড় না হলেও মহামারি এমন পরিস্থিতিতে যা বেচা বিক্রি হচ্ছে তা অনেক। জেস টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমএ আকসাদ সিদ্দীকি শৈবাল বলেন, বিগত বছরের ন্যায় এবছরের পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। তার পরও ব্যবসা মোটামুটি হচ্ছে। মুজিবসড়কের রুপকথার বিক্রয় কর্মী মাসুদুর বলেন, বড়দের চেয়ে শিশু পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে এবছর।  স্টেডিয়াম পাড়ার হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী  রুবেল বলেন, আমাদের মার্কেটের ব্যবসা এবছর মোটামুটি ভালো।
কসমেটিকস ব্যবসায়ী মিথিলা কসমেটিকসের প্রোপাইটর রাসেল হোসেন বলেন, তরুণীরা পোশাকের সাথে মিলিয়ে কানের দুল, চুড়ি, ব্রেসলেটসহ মেকআপ সামগ্রী কিনছেন। কাষ্টমারের প্রচণ্ড ভিড়। তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কথা হয় কাপড়ের দোকানী আলী হোসেনের সঙ্গে। এ বছর কোন পোশাক গুলোর চাহিদা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তরুণীদের কাছে এবার পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সিল্ক, হাফ সিল্কের ওয়ান টিস ও থ্রি-পিস। পাশাপাশি জামার উপরে ডিজাইনের পোশাকের জনপ্রিয়তা বেশি এ বছর। এরপরেই শাড়ি ও থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও গয়না ও প্রসাধনী কিনতে ছুটতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। এদিকে বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে তুলনামূলক ভীড় বেশি। বাচ্চাদের পোশাক বিক্রেতা মামুন বলেন, আমার বিক্রি বেশ ভালো। মানুষের চাপ বেশি।
দর্জিবাড়িতে চলছে চরম ব্যস্ততা। সময় অল্প , কারিগরদের কথা বলার সময় নেই। মর্ডান টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেলিভারি দেয়াটা।
পিছিয়ে নেই জুতার দোকানগুলো। তাদের বেচাকেনা চলছে রমরমা। স¤্রাট, প্রাইম, লিবার্টি, বিউটিসহ বাটা, এপেক্স, লোটো ব্রান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। যে যার পছন্দের জুতা নিচ্ছেন। পাদুকা ব্যবসায়ী  লোকমান হোসেন বলেন, ঈদের দিন যতই কাছে আসছে ততই বাড়ছে ভিড়। শহর জুড়ে কেনাকাটার সঙ্গে শুরু হয়েছে উৎসবের। চাঁদ রাত পর্যন্ত এ ভিড় থাকবে।