ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

লকডাউনে কাজ নেই দেবহাটার সিটিগোল্ড পল্লিতে

Published : Friday 16-April-2021 21:14:08 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৭:৫৬:০৬ pm

ইয়াছিন আলী, দেবহাটা:
কিছুদিন আগে টুং টাং শব্দে মুখরিত হতো দেবহাটা উপজেলার উত্তর সখিপুর সিটিগোল্ডের পল্লীগুলো। সকাল না হতেই বাড়ির মহিলা-পুরুষেরা তৈরি করতো চোখ ধাঁধানো সব হাতের রুলি। কিন্তু লকডাউনে তাদের টুং টাং শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে।  ৪০-৫০টি পরিবারের লোকজন হাত গুটিঁয়ে বসে আছে।
এই পল্লিতে ৫টি বড় কারখানা আছে। কারখানা থেকে এলাকার মহিলারা কাজ নিয়ে বাড়িতে বসে রুলির উপর নকশা করে থাকে। প্রতি জোড়া রুলি মজুরি হিসেবে পেতো ৬০-৮০টাকা। এক জোড়া রুলি নকশা করতে প্রায় ১ঘণ্টা সময় লাগে। এভাবে মহিলা কারিগররা প্রতিদিন ৫-৬ জোড়া রুলি তৈরি করেন। যা তারা মজুরি হিসেবে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত আয় করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা থেকে কাসার পাত এনে হাতের মাপ অনুযায়ী বিভিন্ন মাপের রুলির ডিজাইন করা হয়। এরপর এর উপর নকশা তৈরির জন্য কারিগরদের নিকট পাঠানো হয়। কারিগররা নকশা শেষ করলে কারখানায় এটি ভালো করে পরিষ্কার করে এর উপর স্বর্ণ রঙের প্রলেপের তাপ দিয়ে শুকানো হয়, তারপর এটি বাজারজাত করা হয়। ঢাকা, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অর্ডার অনুযায়ী এই রুলি সরাসরি অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
১ কেজি কাস্টিং পিতল থেকে ৫০ জোড়া রুলি তৈরি করা হয়। প্রতি রুলির উৎপাদন খরচ ১শ’ ৮০ টাকা এবং বাজারে বিক্রি মূল্য ২শ’ ৩০ টাকা থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। যার সাথে এলাকার ১শ’ ৫০ থেকে ২শ’ জন কারিগর কাজ করে থাকে। যার উপরে ভর করে এলাকার বেকার যুবক ও মহিলারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলো কিন্তু তারা এখন বেকার। কেননা লকডাউনের কারণে তারা ঢাকা থেকে কাসা আনতে পারছেনা বা রুলি তৈরি করে দেশের কোথাও বিক্রয় করতে পারছেননা।
 রুলি ব্যবসায়ী মৃত গোলাপদি মোল্ল্যার পুত্র সেলিম হোসেন জানান, তিনি এখানে ২০১০ সালে এ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে এ সকল পণ্য বিক্রয় করে তারা সংসারিক ব্যয় নির্বাহ করেন। এর সাথে এলাকার অনেক মানুষ এ পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরকার যদি তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক ঋণ প্রদান করে থাকেন তাহলে তারা আরো বেশি রুলি তৈরি করতে সক্ষম হবেন এবং এলাকার অসংখ্যা বেকার যুবকযুবতি তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে তারা এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কারও পেয়েছেন’।