ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

২০২০-২১ অর্থবছর: বেনাপোল দিয়ে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি

Published : Monday 12-July-2021 21:31:16 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৬:৪৩:৫৭ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। ২০১৯-২০ বছরের তুলনায় গেলো ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ লাখ মেট্রিক টন পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে যাবার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধ্বস দেখা দিয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৭ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২০-২১ বছরটিতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

বেনাপোল কাস্টম অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২১ অর্থবছরে পন্য আমদানি করা হয়েছিল ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন। আর গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৬ মেট্রিক টন।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে পন্য আমদানি করা হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৪ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪২ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৫ লাখ ১৯ হাজার ২২০ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পন্য আমদানি হয়েছে ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন, এবং গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পন্য আমদানি করা হয়েছে ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ মেট্রিক টন পণ্য।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দিন দিন আমদানি পণ্যের উপর অযৌক্তিকহারে শুল্ককর বাড়ছে। শুল্কহার স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হলে বৈধপথে আমদানি বাড়াবে। এতে বাড়বে রাজস্ব আয়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সব বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম এক হতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে পণ্যের ওপর রাজস্ব ৪ ডলার, বেনাপোল বন্দরে ওই একই পণ্যের ওপর সাড়ে ৪ ডলার শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩৮ হাজার টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, বেনাপোল বৃহৎ বন্দর হলেও এর কেনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। সপ্তাহে ৭ দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও কাগজে-কলমে। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বেনাপোলে সব ধরণের হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন।

বেনাপোল বন্দর উপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও আমদানি পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম চালু হলে এ বন্দর দিয়ে আমদানির সঙ্গে রাজস্বও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমের কমিশনার মো: আজিজুর রহমান জানান, গেলো অর্থবছরের শেষের দিকে কম শুল্কযুক্ত অথবা শুল্কমুক্ত পন্য বেশি আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে চাল অন্যতম। এতে আমদানির পরিমাণ বাড়লেও রাজস্ব আদায় হয়নি। তারপরও আমাদের ৫৭ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে পেরেছি গতবছরের তুলনায়। করোনার দুর্যেগ কেটে গেলে আশা করছি বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে।



আরও খবর