ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

শুটকি মৌসুম শেষের পথে, রাজস্ব আয় যাচ্ছে বনকর্তার পকেটে

Published : Wednesday 31-March-2021 22:06:04 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:২২:৩৬ am

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : চলতি বছরে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হওয়া শুটকি মৌসুম এখন শেষের পথে। তবে, এ মৌসুমে চরগুলোতে উন্নত পরিবেশ না থাকাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে মান সম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সেখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, উন্নত মানের শুঁটকি উৎপাদন করা গেলে সরকারি রাজস্ব আদায় পুর্বের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পেত। অপরদিকে, চলতি শুটকি মৌসুমের সময় সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসার কারণে দুবলায় কর্মরত বনরক্ষীরা অনেকটা সরকারি রাজস্ব আদায়ের কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি মৌসুমে শুটকি পল্লীতে কর্মরত জেলেদের দৈনন্দিন রান্নার কাজে সুন্দরবনের নানা ধরনের জ¦ালানি ব্যবহারের অনুমতি দেয় বনবিভাগ। ওই জ¦ালানির সরকারি রাজস্ব (ডিএফসি) আদায় করতে গিয়ে দুবলা টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যে মেতে ওঠেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে দুবলা শুটকি পল্লীতে প্রায় ১৬ হাজার জেলের থাকার জন্য ৭১৭টি, মহাজনদের ৩৫টি বসতঘর ও মৎস্য আহরণ কাজে ৮৫০ টি নৌকার অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ অনুসারে তৈরির নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার ভিন্নতা রয়েছে। পূর্ব বনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেল বাড়িয়ার  চরসহ  ৬/৭ টি  চরে  গত চার দশক ধরে চলছে দুবলা শুঁটকি পল্লী। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস চালু থাকে শুঁটকি তৈরির মৌসুম। এতে উপকূলীয় এলাকা খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা, বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ী দুবলায় শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, শুঁটকি পল্লীর কয়েকজন মহাজন ও জেলে বলেন, শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীনের যোগসাজসে প্রলাদ চন্দ্র রায়সহ দুবলায় কর্মরত কতিপয় অসাধু বনকর্তা সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে নানা অনিয়ম চালাচ্ছেন। এছাড়া শুঁটকি পরিমাপ ও নৌকার (বি.এল.সি) লাইসেন্স নবায়ন এবং সুন্দরবনের জ্বালানি ব্যবহারে জন্য (ডিএফসি)সহ নানা ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম করেছেন তারা। এমনকি বনজসম্পদ ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও অস্থায়ী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন জেলে ও তাদের মহাজনরা। এছাড়া পল্লীতে অবস্থানরত কয়েক হাজার জেলে তাদের দৈনন্দিন কাজে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার জন্য নিয়মানুযায়ী প্রতিজন জেলের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব ৫৭ টাকা হলেও ফাঁড়ি কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায়কে দিতে হয়েছে ৪০০/৫০০ টাকা। তবে এ সকল ক্ষেত্রে কোনো রিসিপ দেন না বন বিভাগ। এভাবে দুবলা শুঁটকি পল্লী থেকে চলতি বছরে প্রলাদ চন্দ্র রায় লাখ লাখ টাকা গায়েব করেছেন। তবে, এ টাকা তিনি বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে থাকেন। এছাড়া আমরা (জেলেরা)বনরক্ষীদের কাছে নিয়মের কথা বললে তারা নানা অজুহাতে আমাদের পাশ পারমিট (অনুমতি) বন্ধ করে দেন।

এ ব্যাপারে, দুবলা টহলফাঁড়ির কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে চলতি বছরে ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া  বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



আরও খবর