ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

শরণখোলায় দুই মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ মোতায়েন

Published : Tuesday 23-March-2021 21:22:43 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০১:৫৭:২২ am

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  : ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে শরণখোলা উপজেলার তৃণমুল আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে । মনোনয়নপত্র দাখিলের পর গত চার দিনের ব্যবধানে মেম্বার প্রার্থীদের নেতৃত্বে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয় এবং ঘটে অগ্নি সংযোগের ঘটনা। যে কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের বসতিদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এখনও অনেকটা অশান্ত রয়েছে সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা। একের পর এক হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও কিছুতেই যেন এর লাগাম টানতে পারছে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ১৯ মার্সের পর গত দুই দিনের ব্যবধানে পুনরায় ২২ মার্চ গভীর রাতে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের সর্মথকরা পুর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ডালিম গ্রুপের ৫ জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছেন। এদের মধ্যে দুই জন নারী ও তিন জন পুরুষ বলে জানা গেছে। আহতদের  মধ্যে সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. মুজিবর রহমান হাওলাদার (৬৫), তার দুই ছেলে দিন মজুর মো. কাওসার হাওলাদার (৩৫) ও মো. হেলাল উদ্দিন (৩৯)কে সোমবার গভীর রাতে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্যে ভর্তি করা হয়  সেখানে আহতদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক  তাৎক্ষণিক তাদেরকে খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন ।

আহতদের পরিবার জানায়, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৯ মার্চ-সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর সোনাতলা ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের নেতাকর্মীদের সাথে একই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ডালিমের নেতা কর্মীদের এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের প্রায় ৪০ নেতাকর্মী আহত হন । এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হাওলাদার বাদী হয়ে ডালিম গ্রুপের ৪০ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একাটি মামলা দায়ের করেন। তার জের ধরে পরের দিন রাতে ওই এলাকার দুটি দোকান ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেন র্দুবৃত্তরা। জাহাঙ্গীরের দায়ের করা মামলায় ডালিমের লোকজন আদালত হতে জামিন নিয়ে এলাকায় আসলে ২২ মার্চ  রাত পৌনে এগারটায় প্রার্থী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার সমর্থক হাবিব, রাজ্জাক, মামুন ও জাকিরসহ ৫০/৬০ নেতাকর্মী কৃষক মুজিবরের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নারী পুরুষসহ পাঁচ জনকে অচেতন করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মেম্বার প্রার্থী ডালিম  অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীর তার দল বল নিয়ে এ হামলা করেছেন। তবে, প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, আমার জানা মতে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কৃষক মুজিবরের সাথে তার প্রতিবেশী  ইউছুপের সাথে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন প্রার্থী ডালিম ওই ঘটনার দায়ভার আমার উপর চাপাতে চাইছেন। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, রাত থেকে ওই এলাকায় পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং এখনও পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত সাপেক্ষে  জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  এছাড়া শরণখোলা উপজেলা নির্বাচন কমিশনার অঞ্জন সরকার জানান, ওই দুই প্রার্থীর কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।