ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

যশোরে মান্নাত হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ অভিযুক্ত ৯

Published : Monday 12-July-2021 21:28:59 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০২:২১:০৮ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে শহরের বকচর বিহারী কলোনির বাসিন্দা চাঞ্চল্যকর ইসরাফিল হোসেন মান্নাত হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. শামীম হোসেন।

অভিযুক্ত আসামিরা হলো, নিহতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা সুমি, শহরের পুরাতন কসবা মানিকতলা আবু তালেব সড়কের মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে ও নিহতের ভগ্নিপতি শাহ আলম ওরফে শাহা আলী রহমান মৃধা, সদরের সুজলপুর গ্রামের সলেমান হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন, আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে রায়হান শেখ, শফিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে নয়ন হোসেন, শহরের বকচর চৌধুরীপাড়ার নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও নিহতের শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, রামনগর খাঁপাড়ার সোয়েদ আলী খান ওরফে ছমেদের ছেলে গাড়িচালক আল আমিন, মাহিদিয়া পশ্চিমপাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে আল আমিন ওরফে গ্যারেজ আল আমিন ও শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলার আবু তাহেরের ছেলে আরাফাত হোসেন রিফাত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের বকচর বিহারী কলোনির বাসিন্দা এস্কেভেটর চালক ইসরাফিল হোসেন মান্নাতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা সুমির সাথে ভগ্নিপতি শাহ আলমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে স্বামীকে ফেলে শাহ আলমের হাত ধরে পালিয়ে যান সুমি। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করতে থাকেন তারা। এরপর সেখান থেকে তারা যশোরে চলে আসেন এবং উপশহরে ঘর ভাড়া নেন। এরই মধ্যে স্ত্রীকে খুঁজে পেতে শাহ আলমের গাড়িচালক আল আমিনের সাহায্য চান মান্নাত। আল আমিন বিষয়টি শাহ আলমকে জানিয়ে দেন। শাহ আলম শ্যালক মান্নাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে স্ত্রী সুমির সন্ধান দেয়ার মিথ্যা কথা বলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গাড়িচালক আল আমিন কৌশলে শহরের কারবালা এলাকায় ডেকে আনেন মান্নাতকে। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা শাহ আলমের ভাগ্নে শামীমসহ কয়েকজন রাতের আঁধারে পেছন থেকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে নিহতের মা আনোয়ারা বেগম ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত আরো ৬/৭ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলো, শাহ আলম, শামীম হোসেন, শারমিন সুলতানা সুমি ও সুফিয়া বেগম। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্যের যাচাই বছাই করে হত্যার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় আরও ৫ জনের। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্ত শারমিন সুলতানা, সুফিয়া বেগম ও শামীম হোসেনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।



আরও খবর