ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

যশোরে গুদামে ভিড়ছে না কৃষক, বোরো সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা

Published : Monday 14-June-2021 21:55:43 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ২৩:১০:৪৪ pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে চাল সংগ্রহ নিয়ে আশাবাদী হলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ। কেননা চাল নিয়ে মিলাররা চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় তারা সরবরাহ করবেন, কিন্তু কৃষকরা বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় সরকারি গুদামে ধান দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে চলতি মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবার আশংকা রয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বোরা ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৮৭৯ মেট্রিক টন। ২৭ টাকা কেজি দরে ১২ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৭ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন, সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন। দাম ধরা হয়েছে ৪০ টাকা কেজি হিসেবে।

চলতি মৌসুমে মণিরামপুর খাদ্যগুদামের মাধ্যমে কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকে তিন হাজার ৫০০ মেট্রিকটন ধান ও এক হাজার ৮০ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এক হাজার ৮০ টাকা মণ দরে ধান ও ৪০ টাকা কেজি দরে চালের দাম নির্ধারণ করা হয়। যা সংগ্রহ শুরু হয় গত ৬ মে থেকে। ধান চাল ক্রয় শুরু হয়ে একমাস আট দিন সময় পার হলেও এই পর্যন্ত মাত্র ১৮২ টন ধান ও ২৮০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম শিকদার।

গত দুই মৌসুমেও খোলা বাজারে দাম বেশি থাকায় সরকারি গুদামে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

১৪ জুন খোলাবাজারে চিকন ধান এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ২২০ টাকায় এবং মোটাধান ১ হাজার ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মণিরামপুরে চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। যারমধ্যে মাত্র ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে মোটা ধান। সরকার যেই দামে ধান কিনছেন সেটা মূলত মোটা ধানের দাম। যা এই অঞ্চলে উৎপন্ন হয়েছে নামমাত্র।

ধান কাটার মুহূর্তে কৃষক পাকা ধান বাড়ি তুলে পরিস্কার করা মাত্রই বাজারে বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করেছেন। শুরু থেকে কৃষক ধানের চড়া দাম পেয়েছেন। সরকার যখন ধান ক্রয় শুরু করেছেন তখন অধিকাংশ কৃষকের গোলাশূন্য হয়ে গেছে।

মাহমুদকাটি গ্রামের কার্ডধারী কৃষক নূর ইসলাম বলেন ১০০ মণের উপরে ধান পাইছি। এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ১৫০ টাকা ধরে ধান বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু ধান গোলায় আছে। তিনি বলেন, গুদামে ধান দেবো না। সরকার যে দাম দিচ্ছে তার থেকে বাজারে মণে ১০০-১৫০ টাকা বেশি পাচ্ছি। তাছাড়া গুদামে গেলে ধান ভিজা পরিস্কার না; নানা কথা অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেয়। আর ব্যাপারিরা বাড়ি থেকে যেমন তেমন ধান চড়া দামে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, বর্তমানে খোলা বাজারে মোটা চালের পাইকারি দর সরকারের দরের সমান হওয়ায় বিনা লাভে গুদামে চাল দিতে বাধ্য হচ্ছেন চুক্তিবদ্ধ ৪৪ মিল মালিক।

মণিরামপুর মিল মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, যে সমস্ত মিলার আগে ৩৮ টাকা দরে চাল কিনে রাখতে পেরেছেন তারা দুই টাকা লাভে গুদামে চাল দিতে পারছেন। বর্তমানে ৪০ টাকা কেজি দরে চাল কেনা লাগছে। এখন যারা কিনে দিচ্ছেন তারা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

মণিরামপুরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ধীরগতিতে ধান চাল কেনার কাজ চলছে। খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা গুদামে আসছে না। আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা করছি।

একই অবস্থা অন্যান্য উপজেলাগুলোতে। বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে অনেক সময় ক্ষেপন হয়। তারপর যাচাই বাছাই করে। এর চেয়ে খোলা বাজারে কোন ঝামেলা ছাড়াই বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে।

যশোরের ইলা অটো রাইস মিলের সত্ত্বাধিকারী শরিফুল আলম জানান, গতবার সরকারি গুদামে চাল দিয়ে আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা আগে থেকে ধান কিনে রেখেছি। আশা করছি চলতি মৌসুমে লাভ করতে পরব।

এব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুর রহমান জানান, আমাদের সাথে ২৬৫ জন মিলার চাল দেবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যে কারণে তারা চাল দিবেন। তবে বাজারে কিছুটা বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা ধান খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। এতে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।



আরও খবর