ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

যশোরেও এহসান রিয়েল এস্টেটের ৩২ লাখ টাকা প্রতারণায় ২৬ জনের নাম

Published : Monday 13-September-2021 21:35:23 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১৩:৪৩:৩৪ pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই গ্রাহকের প্রায় ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যশোরে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহম্মেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।

দুই গ্রাহক হলেন, যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন (৭২) ও সদর উপজেলার সতীঘাটা কামালপুর গ্রামের মৃত তুরফান গাজীর ছেলে মো. ওসমান গাজী (৭০)। তাদের পক্ষে মামলাটি করেছেন শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে মফিজুল ইসলাম ইমন। 

আসামিরা হলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি আবু তাহের নদভী, প্রধান নির্বাহী ব্যবস্থাপক মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রবিউল ইসলাম, ব্যবস্থাপক মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ আলী, পরিচালক মাগুরা সদর উপজেলার রাউতলা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান, পরিচালক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার লক্ষীধরদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন, পরিচালক খুলনার লবনচরা হরিণটানা রিয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মুফতি গোলাম রহমান, পরিচালক গাজীপুরের টঙ্গি উপজেলার চড়মাটিন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন, মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার খুবদিপুর এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিচুবাগান জামালকান রোডের বাসিন্দা কলিমুল্লাহ কলি, পরিচালক খুলনার খানজাহান আলীর শিরোমনি এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, পরিচালক যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি মো. ইউনুস আহম্মেদ, পরিচালক খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মরল এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, পরিচালক মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী, পরিচালক যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধান্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামসুজ্জামান টিটু, ব্যবস্থাপক (যশোর শাখা) মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতাউল্লাহ, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বেতিখোলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম, মাঠকর্মী যশোর শহরের কারবালা রোডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম (সোনামিয়া), উপশহর এ-বøক এলাকার বাসিন্দা শামসুর রহমান, সমন্বয়কারী সেক্রেটারি যশোর শহরতলীর শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার বাসিন্দা বাবুর আলী, একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক, শার্শা উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এস এম সেলিম উল চৌধুরী, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাটি গ্রামের বাসিন্দা মোকসেদ আলী, যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি ফুরকান আহমেদ, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন, যশোর শহরের পুলিশ লাইনস টালিখোলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও উপশহর ই-বøকের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান।

মোছা. রহিমা খাতুনের পক্ষে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলাম তার পূর্ব পরিচিত। তার প্রলোভনে পড়ে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওই কোম্পানিতে মোট ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তারা তাকে মুনাফা দেননি। এ কারণে তিনি তাদের কাছে আসল টাকা ফেরত চান। আসামিরা তাকে টাকা ফেরত দিয়ে নানা টালবাহনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা তাকে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে আদালতের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

ওসমান গাজীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা প্রতারক, ধাপ্পাবাজ। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে বিভিন্ন ভাবে অর্থ আদায় করে তা তারা আত্মসাৎ করে থাকেন। মামলার ১৭ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলাম ভুক্তভোগী ওসমান গাজীর পূর্ব পরিচিত। তিনি উলে­খিত কোম্পানির মাঠকর্মী সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে তাকে অর্থ লগ্নি করতে উৎসাহ দেন। তাকে বলা হয়, কোম্পানিতে লগ্নিকৃত অর্থের সমপরিমাণ মুনাফা দেয়া হবে। তার প্রলোভনের পড়ে ওসমান গাজী ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কোম্পানিতে মোট ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিন্তু উলে­øখিত আসামিরা প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী তাকে মুনাফা দেননি। এ কারণে তিনি তাদের কাছে আসল টাকা ফেরত চান। কিন্তু তারা আজ দেব, কাল দেব বলে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাতে থাকেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ আগস্ট তাদের কাছে লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করেন। 



আরও খবর