ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনে গরুরও ডিএনএ টেস্ট !

Published : Saturday 04-September-2021 21:17:01 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৮:৫০:৩৯ pm

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনে গরুরও ডিএনএ টেস্ট করা হবে। চোরেদের ফেলে যাওয়া গরু নিয়ে আদালতে মামলা জটিলতায় এমনই কথা বললেন থানা পুলিশ কর্মকর্তা। গরুর মালিকানা নিয়ে পুলিশ ও মালিকপক্ষ উভয়েই আদালতের দ্বারস্থ হওয়াতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গরু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এস আই সুজাত হোসেন জানান, ১৮ আগস্ট উদ্ধারকৃত ৬ টি গরু থানায় এনে জিডি ও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানাতে বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও প্রকৃত গরুর মালিকদের প্রমাণাদিসহ থানাতে যোগাযোগের আহবান জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক মানুষ গরুগুলো দেখতে আসেন। এ সময়ে স্থানীয় চারজন ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি মৌখিকভাবে গরুগুলোর মালিকানা দাবি করছিল। যে কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে মালিকানা নিশ্চিত করতে একটি জব্দ তালিকা করে ঝিনাইদহে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি আরো জানান, এ সংক্রান্ত দাবিকৃত মালিকগণের আদালতে দায়ের করা প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য গত ২৫ আগস্ট থানায় আসে। তিনি পুনরায় তদন্ত শেষে পরদিনই ওই প্রতিবেদনের জবাব আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, গরুর দাবিকৃত মালিকগণ উপযুক্ত প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি। তাই উপযুক্ত প্রমাণাদি দিয়েই প্রকৃত মালিকগণ আদালত থেকে গরুগুলি গ্রহণ করবেন। গরুর মালিকানা দাবিকৃত চার ব্যক্তি হলেন, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমানের তিনটি, মুন্নার একটি, ঢাকালে পাড়ার পারভেজ রহমান রচির একটি ও পৌরসভার পানির লাইনের কর্মচারী নুর ইসলাম একটি গরু।

গরু মালিকদের মধ্যে মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমান জানায়, পুলিশের উদ্ধারকৃত গরুগুলোর মালিক তারা চারজনই। উদ্ধারের পর থেকেই তারা বার বার থানাতে গেলেও গরু ফেরত দেয়নি পুলিশ। উল্টো দু’দিন পর থানা থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় আদালত থেকেই গরু নিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই তারাও আদালতের দ্বারস্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশের আদালতে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনেরও পাল্টা নারাজি পিটিশন দিয়েছেন মালিকগণ।

ক্ষতিগ্রস্ত গরু মালিকেরা আরো জানায়, গরুর মালিকানা নির্ধারণে কি কি প্রমাণপত্র দিতে হবে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ ভাগ্যক্রমে চোরেদের কবল থেকে গরুগুলি রক্ষা পেলেও এখন আইনি জটিলতায় থানা পুলিশের ভোগান্তীতে নাজেহাল হচ্ছেন তারা। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, অনেকেই গরুর মালিকানা দাবি করাতে তারা জব্দ তালিকা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে মালিকগণও আদালতে গেছে। তাই প্রয়োজনে গরুর সঠিক মালিকানা নির্ধারনে ডিএনএ টেস্টও করানো হতে পারে বলে তিনি জানান।



আরও খবর