ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

মাগুরায় হাসপাতালে বেড়েছে করোনা রোগী, বারান্দায় চিকিৎসা

Published : Thursday 05-August-2021 22:03:06 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৯:৩৫:৫১ pm

এস আলম তুহিন, মাগুরা  : মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে করোনা ওয়াডে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন অনেক  কোভিড আক্রান্ত রোগীরা। শালিখা উপজেলা ধনেশ্বরগাতি গ্রাম থেকে ১২ দিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর ঠাণ্ডা নিয়ে হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন সমুন বিশ্বাস। হাসপাতালের বেড না পাওয়ায় তার স্থান হয়েছে মেঝেতে। শুধু সুমন বিশ্বাস নয় অনেকেই হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। অনেকে আবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে দেখতে আসছেন ছোট শিশু সাথে নিয়ে। স্বাস্থ্য বিধি না মেনে রোগীর স্বজনরা অবাদে চলাফেরা করায় সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারনা করছেন হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স। তারা বলছেন, একজন রোগীর সাথে দুই থেকে তিন জন ভিজিটর থাকায় চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতালে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল কৃর্তপক্ষ।

বৃহস্পতিবার মাগুরা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, করোনা রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের ভিড়। কেউ আছে হাসপাতালের বেডে কেউ আছে মেঝেতে শুয়ে। এইভাবে কষ্ট করে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা। শ্রীপুর উপজেলা নাঙ্গলবাধ থেকে দাদা, দাদিকে নিয়ে করোনা ওয়াডে ভর্তি হয়েছেন উজ্বল শেখ। তিনি বলেন, হাসপাতাল  থেকে ১০ % ওষুধ দেয়। আবার বাকি ওষুধ আমদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাইরে পাওয়া লাগে। যদি হাসপাতাল কৃর্তপক্ষ আমাদের পুরো ওষুধ দিত তাহলে বাইরে যাওয়া লাগতো না। আমাদের ওষুধ কেনার টাকা নেই। কষ্টের মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সালমা পারভিন বলেন, বতমানে করোনা ওয়াডে রোগীর সংখ্যা রয়েছে ৯০জন। আইসুলেশন ওয়াডে রোগী রয়েছে ৫৯ জন। নার্স সংখ্যা রয়েছে ৬জন। ডাক্তার রয়েছে ৫ জন। তিনি দাবি করে বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন পর্যাপ্ত রয়েছে। হাসপাতালে যে সকল ওষুধ সাপলাই আছে সেগুলো রোগীরা পেয়ে থাকে। যেটার সাপলাই নেই সেটা বাইরে থেকে কিনতে হয়। সব রোগীরা খাবার পায়। তিনি আরো বলেন, একজন রোগীর কাছে দুইজন করে ভিজিটর থাকে। অনেক সময় তারা ঠিক মত মাস্ক পরেন না। আবার বাইরের লোকজন বেশি আসছে। বাইরে গিয়ে ঘুরাঘুরি করছে। বলেও এরা শুনে না। করোনা ওয়াডে ভিজিটর যেন না থাকে এমন কথা বলেন তিনি।

মাগুরা সদর হাসপাতালে আরএমও বিকাশ কুমার শিকদার বলেন, মাগুরা করোনা রোগীর বেড়ের সংখ্যা রয়েছে ১০০ বেড়ের সংকলান আছে। আইসুলেশন ওয়ার্ডে বেড়ে সংখ্যা রয়েছে ৫০ জন। আক্সিজেন পযাপ্ত রয়েছে। সেট্রাল অক্সিজেন সাইপলাই আছে। রোগীর চাপ যে ভাবে বাড়ছে তাতে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছি। তারপর সবত্র চেষ্টা চারিয়ে যাচ্ছি কোনো সমস্যা  যাতে না হয়।

মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: শহিদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, হাসপাতালে রেড জোনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী এবং ইউলো জোনে প্রায় ৩০ থেকে প্রায় ৩৫জন রোগী থাকছেন। আমাদের কিছু কিছু রোগীর আইসিইউ সেবা দেয়ার  প্রয়োজন পড়ে। প্রতিটা হাসপাতালে ১০টি করে আইসিইউ বেড় রেখে চিকিৎসা সেবা যাবে সেটা প্রক্রিয়া আছে। অতি দ্রুত সময়ে মধ্যে হাসপাতালে আইসিউ সেবা স্থাপিত হবে বলে আশা রাখছি। তবে দিন দিন হাসপাতালে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। আমাদের বেড সীমিত। আরো কিছু বেড বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমরা রোগীর স্বজনদের বাইরে চলাচল ও যেতে নিষেধ করছি। অনেকে মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের স্বাস্থ্যকমীরা দির রাত পরিশ্রম করছে ।