ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

মাগুরায় মাল্টা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা মুন্না

Published : Tuesday 07-September-2021 21:42:05 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৭:০৭:৫০ am

এস আলম তুহিন, মাগুরা : মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নের রূপাটি গ্রামে ২ একর জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা চাষি আশিকুর রহমান মুন্না । বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে ঝুলছে সবুজ রঙের মাল্টা । প্রতিটি গাছে ২০-২৫ করে মাল্টা ধরেছে । বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে মাল্টা । বাজারে মাল্টা সাধারণত হলুদ রঙের হয়ে থাকে কিন্তু বারি-১ জাতের এ সবুজ রঙের মাল্টার পুষ্টিগুণ অনেক ।

উদ্যোক্তা চাষি আশিকুর রহমান মুন্না জানান, আমি একজন কম্পিউটার সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। ভালো চাকরি পাচ্ছি না।  তাই নিজেদের পতিত জমিতে মাল্টা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করি। তাই  ২০১৬ সালে যশোরের ঝুমঝুমপুর নার্সারি থেকে ৩৫০টি চারা গাছ সংগ্রহ করে ৭৫ শতক নিজ জমিতে প্রথম চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই পায় সাফল্য। তারপর সাফল্যের পথ ধরে  ২০১৭ সালে ৯৫ শতকে শুরু করি আরেকটি মাল্টা বাগান। ২০২০ সালের ২টি বাগানে মাল্টা চাষে আমার খরচ হয় ২-৩ লক্ষ টাকা। মাল্টা বিক্রি করি সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। এবার চলতি বছরে আবহাওয়া অনুক‚লে ছিল না। অতিবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে মাল্টা বাগানে ফুল অনেকাংশে ঝরে পড়ে গেছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে যখন গাছে ফুল আসে তখন আবহাওয়া ভালো ছিল না। গাছের ফুল যখন ঝরে পড়ছিল তখন আমি গাছের পরিচর্চা বাড়ায়। সার ও সেচ নিয়মিত দেয়ার ফলে গাছ ধীরে ধীরে বড় হয়। এরপর গাছের গোড়া থেকে আগাছা পরিষ্কার করি। মে-জুন থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ ফল পরিপূর্ণ হয় সেপ্টেম্বর মাসে। এবার ফলন কম হওয়ায় বিক্রি কম হবে। আমার দুই বাগানে এবার ৭০-৮০ মণ মাল্টা হবে বলে আশা রাখছি। যা বিক্রি হবে ২-৩ লক্ষ টাকা। এ মাল্টা রঙ সবুজ হলের ভেতরে সাদা, রসে পরিপূণ ও মিষ্টি। ঢাকার ব্যাপারিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে বাগান থেকে মাল্টা নিয়ে যায়। তাছাড়া টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতে মাল্টা যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আমাদের ফলের চাহিদা ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে অনেক ফল ব্যবসায়ী বাগানে এসে মাল্টা ক্রয় করে নিয়ে যায়। এ চাষের জন্য আমি নিয়মিত কৃষি বিভাগের সাথে যোগোযোগ রক্ষা করছি। মাল্টা চাষের জন্য মাটি এবং আবহাওয়া ভালো হওয়া চাই। নিয়মিত সঠিক পরিচর্চার মাধ্যমে গাছে ভালো ফল পাওয়া যায়। মার্চ মাসে যখন গাছে ফল আসে তখন পরিচর্চা বাড়াতে হবে। কাঠের গুড়ো, গবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি সার ও  নিয়মিত দিতে হবে। যখন ফল আসতে শুরু করে তখন বাগানে পরিচর্চা বেশি বেশি করতে হবে। পূর্বে এ চাষে আমি মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের সাবেক উদ্যানতত্ত¡বিদ মো: মনিরুজ্জামানের নিকট থেকে অনেক পরামর্শ পেয়েছি। তারা আমাকে নানা ভাবে চাষের কলাকৌশল সর্ম্পকে সহযোগিতা করেছে। আমার বাগান দেখে এখন এলাকার অনেক যুবক মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামীতে এ চাষে আরো ভালো সাফল্য পেতে  অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এ চাষের পাশাপাশি আমি এলাকায় মাছের চাষের জন্য কাজ করবো ।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন, জেলায় চলতি বছরে ১০ হেক্টর জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ হয়েছে। মাল্টা একটি পুষ্টিগুণ ফল। এ ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এ চাষে জেলার তরুণদের বেশি বেশি এগিয়ে আসতে হবে। কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টা চাষে সবাইকে উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে। জেলার মাটি মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী। তাই বানিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা চাষ করলে দেশের অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ।   

 



আরও খবর