ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

মহম্মদপুরে ‘বাঘের’পায়ের ছাপ!

Published : Wednesday 09-June-2021 22:09:40 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৬:০৪:৩২ am

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে মরিচ ক্ষেতে বাঘের বিচ্ছিন্ন ও সারিবদ্ধ পায়ের  কিছু ছাপ দেখা গেছে।  বুধবার  জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিউনের বেথুলিয়া এলাকায় একটি মরিচ ক্ষেতে বাঘের ছাপগুলো দেখেন এলাকার লোকজন। বাঘ দেখার খবরে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে কেউ ফসলের মাঠে যাচ্ছে না। জমির মালিক কাজী উমর আলী দাবি করেন, বেথুলিয়া এলাকায় কালিগাঙ নামে একটি খালের পাড়ে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। বুধবার সকালে পরিচর্যার জন্য ক্ষেতের  উদ্দেশ্যে বের হন। ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে আসলে তিনি বড় একটি বাঘ দেখতে পান। ভয়ে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। দূর থেকে তিনি তিনটা বাঘ দোখতে পান। একটা বড় বাঘের সাথে আরও দুইটা বাঘ দেখতে পান।  মা বাঘের সাথে দুটি বাচ্চা বলে তার ধারণা। তিনি চিৎকার শুরু করলে ১০-১৫ জন গ্রামবাসী জড়ো হন। তারা সবাই বাঘ দেখতে পান বলে তিনি জানান। একপর্যায়ে বাঘ তিনটি পাশের পাট ক্ষেতের মধ্যে চলে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মরিচ ক্ষেতের মধ্যে আশপাশে পায়ের ছাপ দেখা গেছে। তখন সবাই মত দিলেন এটি বাঘের পায়ের চিহ্ন। এছাড়া এ এলাকার অনেকেরই গবাদি পশু হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পায়ের ছাপ দেখে বড় আকৃতির চিতাবাঘ হতে পারে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। স্কুল শিক্ষক আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তারা ভয়ে আছেন। বাঘের ভয়ে ফসলের মাঠে যাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম আজম সাবু জানান, মহম্মদপুরে রেকর্ড ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর পাটের আবাদ হয়। পাট বড় বলে ফসলের মাঠ ঢেকে যায়। এসময় বাঘ বের হওয়ার গুজব শোনা যায়। এবার বাঘ দেখা গেলো।  পায়ের ছাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় আকৃতির বাঘ। তিনি বলেন, এখানে মেছো বাঘের দেখা মিলেছে। কিন্তু কখনো বাঘ বা চিতা বাঘ দেখেননি। তবে তার দাদার মুখে শুনেছেন, এখানে একসময় চিতা বাঘ হানা দিত। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা এসে  আলামত সংগ্রহ করবেন বলে তিনি জানান।

মাগুরা  বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, এ এলাকায় মেছো বাঘ ও ছোটো আকৃতির চিতাবাঘের বিচরণ আছে। অনেক সময় গ্রামবাসীর হাতে বাঘ মারা পড়ে। আলামত সংগ্রহের পর বাঘ বিশেষজ্ঞরা বাঘের প্রজাতি ও আকৃতি সম্পর্কে জানা জানা যাবে।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, বাঘের পাযের ছাপ দেখার বিষয়টি শুনেছেন। এ বিষযে বনবিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।