ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ৯ কার্তিক ১৪২৮

ভয়াবহ চেক জালিয়াতি : আড়াই কোটি টাকা উত্তোলন একটি চক্রের, তদন্ত কমিটি

Published : Thursday 07-October-2021 22:39:31 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ০৪:২৮:৪৬ am

যশোর শিক্ষাবোর্ড

মিরাজুল কবীর টিটো: এ যেন পুকুর চুরি। মাত্র ১০ হাজার ৩৬ টাকার  ভ্যাট ও আয়করের চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটির বেশি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। এই ভয়াবহ চেক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে যশোর শিক্ষাবোর্ডে। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড অফিসের সোনালী ব্যাংক বিআইএসই শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করেছে চক্রের সদস্যরা। এরমধ্যে ৭টি চেকের টাকা ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের নামে ও শাহী লাল স্টোরের নামে দুটি চেক জমা দিয়ে এ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বোর্ডের আর্থিক বছর শেষে ব্যাংকের সাথে আয় ব্যয় যাচাই করার সময় এটি ধরা পড়েছে বলে জানান বোর্ডের অডিট অফিসার আব্দুস সালাম আজাদ। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনে করা হয়েছে।

বোর্ডের হিসাব বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক (হিওনি) জানান, গত বছরের ৮জুলাই বোর্ড থেকে ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের নামে ২ হাজার ৫শ’ টাকার আয়কর চেক ইস্যু করা হয়। একই মাসের ৩০ তারিখে ওই টাকার বিপরীতে জালিয়াতি করে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২০ সালের ১২ আগস্ট ১ হাজার ২০৭ টাকার ভ্যাটের চেক ইস্যু করা হয়। পরবর্তী মাসে ভাটের চেকের বিপরীতে ২৮ সেপ্টেম্বর ১৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট শাহী লাল স্টোরের নামে আয়কর বাবদ ৬শ টাকার চেক ইস্যু করে বোর্ড। ২৬ অক্টোবর ৬শ’ টাকার চেকের বিপরীতে উত্তোলন করা হয় ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। একই প্রতিষ্ঠানের নামে ১৬ নভেম্বর আয়কর বাবদ ৬৭৮ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর ওই টাকার বিপরীতে উত্তোলন করা হয় ২৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের নামে বোর্ডের ইস্যু করা ভ্যাটের ৬শ টাকার চেকের বিপরীতে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, এবছরের ৬মে একই প্রতিষ্ঠানের নামে ভ্যাটের ৯৯৬ টাকার বিপরীতে ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ২৯ জুন ভ্যাটের ১ হাজার ৭২৫ টাকার বিপরীতে ৪২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ৩০ জুন ভ্যাটের নামে ইস্যুকৃত ১ হাজার ৮০ টাকার চেকের বিপরীতে ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আয়করের ৬৫০ টাকার বিপরীতে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা চেক জালিয়াতি করে উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে।

হিসাব বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক জানান,বোর্ড থেকে এ চেক জালিয়াতি হয়নি,হয়েছে বাইরে থেকে। বোর্ড অফিস বিআইএসই শাখা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার শাহিদুর রেজা জানান, ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের ফকিরাপুল মতিঝিলের নামে চেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখায় ৭টি চেক ও ইসলামী ব্যাংক যশোর ব্রাঞ্চে শাহী লাল স্টোরের নামে দুটি চেক জমা দেয়া হয়। ৭টি চেক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর আমরা ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পর ব্যাংকে টাকা ঢুকে যায়। ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর টাকা দেয়া হয়েছে। চেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক যশোর শাখায় ম্যানেজার নিয়াজ হাসান জানান, তার ব্যাংকের সোনালী ব্যাংকের চেক জমা দেয়া হয়। চেক সঠিক পেয়ে টাকা জমা করা হয়। পরে হয়তো জালিয়াতি হয়েছে। এঘটনা আগে জানতাম না। পরে জানতে পারি। ইসলামী ব্যাংক যশোর ব্র্যাঞ্চে জমা পড়ে শাহী লাল স্টোরের নামে দুটি চেক । এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ম্যানেজারের মোবাইলে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। জমা দেয়ার দায়িত্বে থাকা হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম পলাতক রয়েছে।

এদিকে জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানী,সদস্য বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. বিশ^াস শাহীন আহমেদ, হিসাব বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক, উপসচিব প্রশাসন(প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম ও বোর্ড অফিস সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার শাহিদুর রেজা।

বোর্ডে সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলি আর রেজা জানান, পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে চেক জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রথমে এবিষয়ে থানায় জিডি করা হবে । পরে করা হবে মামলা। এ ব্যাপারে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, হিসাব শাখা থেকে জানতে পারি চেক জালিয়াতি হয়েছে। ইস্যুকৃত চেকের মুড়ি বই যে টাকা লেখা ছিল তার চেয়ে বেশি টাকা জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে। কম্পিউটারের মুড়িবই ও চেক প্রিন্ট করে বের করা হয়।  সেখানে টাকার অংক লেখার সুযোগ থাকে না।