ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

বেনাপোল স্থলবন্দরের জীর্ণদশা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা কর্মচারিরা

Published : Tuesday 07-September-2021 22:40:54 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০০:১২:২২ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৯৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের। কিন্তু ২৬ বছরেই স্থলবন্দরের প্রধান রাজস্ব ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। পাঁচ বছর ধরে বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ভবনের ছাদ ধস রক্ষার চেষ্টা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির জীর্ণ দশা হলেও পরিত্যক্ত ঘোষণা বা সংস্কারের উদ্যেগ নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভবনটিতে অফিস করছে বন্দর, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থা পিমা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী ও সিঅ্যান্ডএফ সদস্যারা। ভবনটির বয়স মাত্র ২৬ বছর হলেও ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি ইউনিটে বড় ফাটল ধরেছে। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় তলার একটি অংশ অফিস গুটিয়ে নেয় চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাজেঞ্জার টার্মিনালে।

তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কর্মকর্তারা থেকে যায় ভবনটিতে। তিন তলা ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ার শঙ্কায় ইতিমধ্যে বাঁশ ও কাঠের গুঁড়ি ও লোহার আ্যাঙ্গেল দিয়ে ভবন ধস রক্ষার চেষ্টা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর একটি ইউনিট যেটি ব্যবহার হচ্ছে সেটিও জরাজীর্ণ। সব সময় ছাদ থেকে বালি ঝরছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে ভবনে চলা ফেরা করতে হচ্ছে। যে কোন সময় ভবন ধসে কয়েকশ মানুষের জীবন হানি ঘটতে পারে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ড এফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ভবনটিতে বন্দর, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থার অফিস রয়েছে। সেখানে সবসময় তিন শতাধিক মানুষ বাণিজ্যিক কাজে অবস্থান করে। এমন একটি ভবন বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ভবন ধস ঠেকানোর চেষ্টা করে বাণিজ্যিক কার্য সম্পাদন হচ্ছে বিষয়টি দুঃখজনক। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটতে পারে।

বেনাপোল বন্দরে আমদানি, রফতানি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মহাসিন মিলন বলেন, আমদানি কারকদের কাছ থেকে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। অথচ সেই বন্দরের রাজস্ব আদায়ের প্রধান বাণিজ্যক ভবনটি জরাজীর্ণ। আতঙ্কের মধ্যে ভবনে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

ভারত বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, শুরু থেকে বন্দরের দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ রয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বন্দরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে না নেওয়া হলে কখনই কাঙ্খিত অবকাঠামো উন্নয়ন হবে না।

বিষয়পি স্বীকার করে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ভবনটি দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিট ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে তালা মেরে রাখা হয়েছে। ভবনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।