ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

বেনাপোল বন্দরে সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্য শুল্কায়ন বন্ধ

Published : Thursday 12-August-2021 22:01:59 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৫:৪৩:৫৮ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন কার্যক্রম সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। দিনের দিন তারা পণ্য খালাস নিতে না পারায় প্রচণ্ড গরমে অধিকাংশ পণ্য পচে নষ্ট হচ্ছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন, সন্ধ্যার পর পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

জানাযায়, মাঝে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফল জাতীয় খাদ্য দ্রব্য আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে বিপুল পরিমাণে বেড়েছে কাঁচা মাল জাতীয় পণ্যের আমদানির পরিমান। প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের ফল ও খাদ্য দ্রব্য জাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। প্রতিদিন এ আমদানি পণ্য থেকে সরকারের ২ থেকে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আসে। তবে সাম্প্রতি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের শুল্ক ফাঁকির কারসাজিতে সরকার যেমন হারাচ্ছে রাজস্ব তেমনি তাদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন বিপাকে।

আমদানিকারকের প্রতিনিধি রয়েল জানান, এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পণ্য খালাস নিতে পারতেন। তবে বর্তমানে সন্ধ্যার পর পচনশীল জাতীয় কোনো কাঁচামাল খালাস নিতে পারছেন না। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পণ্য আটকে থেকে গরমের মধ্যে পচে নষ্ট হচ্ছে। সৎ ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাস্তবায়ন করতে কাস্টমসের প্রতি অনুরোধ জানান এ ব্যবসায়ী।

বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডের ট্রাফিক পরিদর্শক পলাশ জানান, বেনাপোল বন্দরে গত তিন দিনে ভারত থেকে ৪৫ ট্রাক খাদ্য দ্রব্য জাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে, মাছ, টমেটো, কাঁচাঝাল, আঙুর, ক্যাপসিক্যামসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। তবে কাস্টমসে বিধি নিষেদের কারণে সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্য খালাস নিতে পারেননি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর কাঁচামাল জাতীয় পণ্য ছাড়করনের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী অনিয়ম করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করে থাকে। রয়েল এন্টারপ্রাইজ ও আলেয়া এন্টারপ্রাইজের কাছে প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬ টার পর আপাতত শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪০ হতে ৫০ ট্রাক খাদ্য দ্রব্য ও ফল জাতীয় পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যা থেকে সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আসে। গত মঙ্গলবার থেকে এ পথে সন্ধ্যা ৬ টার পর ফল জাতীয় পণ্য শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।



আরও খবর