ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

পাইকার নেই চৌগাছার ফল হাটে

Published : Wednesday 30-June-2021 21:51:50 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ১৪:৪৫:৪৬ pm

বাবুল আক্তার, চৌগাছা: যশোরের চৌগাছা দেশের সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। সীমান্ত অঞ্চলে প্রতিনিয়ত শনাক্ত হচ্ছে নভেল করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরণ। এতে দেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। যদিও এ উপজেলায় কোনো রোগীর মধ্যে ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়নি। তার পরেও করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারনে উপজেলায় চলছে কঠোর বিধিনিষেধের ১২ তম দিন এবং যশোর জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে পারছেনা কেউ। লকডাউনের শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফল বেচাকেনায় সংশ্লিষ্টরা এ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবেন। তারপরেও সংক্রমণের শঙ্কায় ঢাকাসহ দূরের ব্যবসায়ীরা ফল কিনতে আসছেনা সীমান্ত এলাকার উপজেলা চৌগাছায়। ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ উপজেলার ফল চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চৌগাছায় ৩ হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে আম চাষ রয়েছে ৮’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। ড্রাগন ৭ হেক্টর, পেঁয়ারা ২’শ ৮০ হেক্টর, মাল্টা ১০ হেক্টর, লিচু, ৮০ হেক্টর এবং কুল ১’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আমের মৌসুম চলছে। এবং ড্রাগন, ঁেপয়ারা ও মাল্টা ফলের কিছুটা উৎপাদন হচ্ছে। 

প্রতিবছর এসময় ফল ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখর খাকত উপজেলার ছোট বড় ফল বাজারগুলো। এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের কারনে শহরের বেশির ভাগ মানুষই গৃহবন্দি। পাইকারদের আনাগোনা নেই। কয়েকজন চাষী জানান, মৌসুমে শুরতে ক্রেতা আসতে শুরু করেছিল। কঠোর লকডাউনের কারনে জমে ওঠেনি বেচাকেনা। এতে চাষী ও আড়তদার উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা যায় দুই একজন চাষী আম নিয়ে এসেছেন, কিন্তু ক্রেতা না থাকায় তারা বসে আছেন ডালি নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা প্রশাসনের দেওয়া সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনের কারণে ফল বাজারের এ অবস্থা। করোনার কারনে সীমান্তবর্তী চৌগাছায় আম কিনতে ব্যাপারী আসছেনা বলে জানান, আড়তদার সেলিম রেজা।

বাগানে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা না পাওয়ার আশঙ্কায় আম পেকে গেলেও গাছ থেকে আম পাড়ছেননা চাষীরা। উপজেলার বর্ণী গ্রামের চাষী, ফারুখ হোসেন, ণারয়ণপুর গ্রামের আলামিন, ইছাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, আম পেড়ে কার কাছে বিক্রী করব? ক্রেতা না থাকায় স্থানীয় বাজারে দামও কম। গত বছর লেংড়া আম বিক্রি করেছেন ৪০/৫০ টাকা কেজিতে, রুপালী ৩৫/৪০, সেই আম এবছর ১৫/২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চাষী ফারুখ হোসেন বলেন, লকডাউনের কারনে তার ৬ বিঘা আম বাগানে প্রায় ২ লাখ ক্ষতি হবে।

উপজেলার পুড়াপাড়া এলাকার মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী সুলাইমান হোসেন জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে আম বাগান ক্রয় করেন। গাছে মুকুল আসার সাথে সাথে মালিকদের কাছ থেকে তিনি বাগান কিনে রাখেন। ২ লাখ টাকা দিয়ে ৩ টি বাগান কিনেছেন এবছর। পরিচর্চা করতে তার আরো ৫০ হাজার খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ আম বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবছরে প্রায় ১ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। অথচ এই পরিমান টাকার বাগান কিনে গত বছর প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়ে ছিল।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চাষী আরিফুর রহমান জানান, তার ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়ারা  মাল্টা চাষ রয়েছে। লকডাউনের কারণে ক্রেতা না থাকায় তার বাগানে পেঁয়ারা নষ্ট হচ্ছে। বেশ কয়েকজন ড্রাগন চাষীও জানান তারা পাইকারী ক্রেতা না পেয়ে রাস্তার ধারে বসে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন জানান, চৌগাছা অঞ্চলে সাধারণত হিমসাগর, লেংড়া ও রুপালী  জাতের আমের চাষ হয়। তিনি বলেন, লেংড়া এবং হিমসাগর জাতের আম লকডাউনের আগেই ৭০ ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে। যে সকল চাষীরা এখনো বিক্রি করতে পারেননি তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এবং রুপালী জাতের আম চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।



আরও খবর