ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

পশ্চিম সুন্দরবনে বিএলসি নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

Published : Wednesday 18-August-2021 21:42:44 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ১৪:৪২:৩০ pm

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা : পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বিএলসি নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। প্রতি বছর সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া, মধু ও গোলপাতা আহরণের জন্য নৌকার ধরন অনুযায়ী সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি প্রদান করে বিএলসি নবায়ন করতে হয় বনজীবীদের। বিএলসি নবায়ন করতে বনজীবীদের গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। আর তা না হলে বিভিন্ন কারণে নবায়ন হয় না বিএলসি। বনকর্মকর্তা কর্মচারীরা নানা প্রকার চাপ প্রয়োগ, ভয়, হুমকি প্রদর্শন করে দালালদের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে। বিএলসি নবায়ন করতে মাঠে রয়েছে একটি দালাল চক্র। তারা প্রতিটা বিএলসিধারীদের কাছ থেকে বিএলসি নৌকা নবায়ন করতে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে দালালরা। ভ্রমণ ট্রলার বিএলসি ১২০০-১৮০০ টাকা রাজস্বের পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে  ৩৫০০ টাকা।

এবছর ৩১ জুলাই নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও বিএলসি নবায়ন শেষ করতে পারিনি বনবিভাগ। বিএলসি নবায়ন পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় ৪টি স্টেশনে মোট ২৮০০ বিএলসি এরমধ্যে কৈখালী স্টেশনে ৫০০, কদমতলা স্টেশনে ৭০০, বুড়িগোয়ালীনি স্টেশনে ৮০০, কোবাদক স্টেশনে ৯০০ বিএলসি রয়েছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ১০০ মণ পরিমাপের নৌকার বিএলসির সরকারি রাজস্ব ২৪ টাকা। ৫০ মণে ১২ টাকা। আর ২৫ মণ পরিমানের নৌকায় ৬ টাকা রাজস্ব। কিন্তু সরকার নিধারিত মূলের চেয়ে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি টাকা। ২৫ মণের নৌকার বিএলসি নবায়নে ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলেদের কাছ থেকে আদায় করেছে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। সুন্দরবন ভ্রমণ ট্রলার বিএলসি ১২০০-১৮০০ টাকা রাজস্বের পরিবর্তে আদায় করছে ৩৫০০ টাকা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক জেলে বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিএলসি নবায়নকারীরা জানান, নৌকা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি টাকা নেয়ার কথা বললে বন আইনে মামলা খেতে হয় তাদের। সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ কাঁকড়া আহরণের নৌকা স্বাভাবিক ২৫ মণ পরিমাপের হয়ে থাকে।

বর্তমানে বনে প্রবেশের পাশ বন্ধ, আমাদের কোনো আয় নেই, তারপরও অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বিএলসি নবায়ন করতে হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে একাধিক বন আইনে  মামলা দেয়া হয়ে থাকে। দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে প্রত্যেকের নৌকা স্টেশনে এনে মাপ জরিপ করে মিলিয়ে বিএলসি প্রদানে আরো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। বর্তমানে জরিমানাসহ নবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার অফিসের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক লেনদেন অভিযোগ নেই। তবে কোনো বলেন ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০০ বিএলসি জরিমানা ছাড়া নবায়ন করেছেন। বাকী তিন শতাধিক জরিমানা নিয়ে নবায়ন কার্যক্রম চলছে।

 



আরও খবর