ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ৯ কার্তিক ১৪২৮

নির্মাণের দুই বছর পরেও মহেশপুরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি চালু হচ্ছে না

Published : Saturday 11-September-2021 22:05:05 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ০৪:২৮:০৪ am

দুই কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

অসীম মোদক, মহেশপুর: মহেশপুর উপজেলার শতবছরের পুরাতন মহেশপুর পৌরসভায় চার কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। আশা ছিল পৌর এলাকার বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়ার। নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে দুই বছর। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় আজো চালু করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমান পৌর পরিষদের পূর্বে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা বেশ কিছু টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া করে গেছেন। বর্তমান পরিষদ চলমান বিল পরিশোধের পাশাপাশি বকেয়া বিলও দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কম আয়ের পৌরসভা হওয়ায় একসঙ্গে বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না। আর এই অপরাধে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাদের এই প্রকল্পে সংযোগ দিচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শেষ হলেও পড়ে থেকে প্লান্টটি নষ্ট হতে চলেছে। অবশ্য তারা বিকল্প ব্যবস্থায় চালানো যায় কি না সেই চেষ্টা করছেন বলে জানান পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন।

স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, মহেশপুর পৌর এলাকার ৯৬ শতাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি। দীঘদিন এ পানি পান করলে মারাত্মক রোগ ব্যধি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া পৌরসভার সাপ্লাই পানিতে অতি মাত্রায় আয়রণ থাকায় পানি পান করার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে পৌরসভার পাইপ লাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে আর্সেনিক ও আয়রন রিমুভাল প্লান্ট স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪,২৯,৬৪,৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ৬ জুন প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়, বাকি থাকে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ। 

মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন জানান, মো. ইউনুছ এন্ড  ব্রাদার্স (প্রাঃ) লি. নামে চট্রগ্রামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছেন। ঠিকাদার ইতোমধ্যে ২৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন, তিনটি পাম্প হাউজ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শেষ করেছেন। প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, এখন বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে বাকি কাজ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় ঠিকাদারকে ৮০ শতাংশ কাজের বিল উত্তোলন করেছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় তারা পাল্টটি চালু করতে পারছেন না। ফলে সাড়ে ৩৫ হাজার পৌরবাসী আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত সুপেয় পানির অভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

মেয়র আরো জানান, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ওয়েষ্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কেম্পানি মহেশপুর পৌরসভার সব ধরনের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান বন্ধ রেখেছে। ফলে তিনটি পাম্প হাউজ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে বিদ্যুৎ সংযোগ তারা দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার কারণে ঠিকাদার বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পারছেন না। ফলে প্লান্টটিও চালু করতে পারছে না।

এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহেশপুর অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী সেকেন্দার হাসান জাহাঙ্গীর জানান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও পাম্প হাউজে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য মহেশপুর পৌরসভা থেকে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার নিকট ২ কোটির অধিক টাকা বকেয়া রয়েছে। এতো বিপুল অংকের টাকা বকেয়া রেখে কোনো ধরনের সংযোগ না দেয়ার জন্য তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। ফলে বিল পরিশোধ অথবা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া পৌরসভায় নতুন সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন আরো বলেন, পৌরসভার পূর্বের চেয়ারম্যান ও মেয়র কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল না দিয়ে বকেয়া রেখে গেছেন। যা সুদ বেড়ে ২ কোটির অধিক হয়েছে। বর্তমান পরিষদ সাধ্যমত পূর্বের বকেয়া পরিশোধ ও চলমান বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে যাচ্ছে। কিন্তু পৌরসভার তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মন্ত্রণালয়ে এককালিন অর্থ বরাদ্দের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে সোয়া ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্প চালু না হওয়ায় তার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যে কারণে তারা বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষামূলক চালুর চেষ্টা করছেন। তবে তিনি শর্ত সাপেক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করার দাবি জানিয়েছেন, তাহলে পৌরসভা এলাকার সাড়ে ৩৫ হাজার মানুষ আর্সেনিক ও আয়রণ মুক্ত পানি পাবে। তারা পানিবাহিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুক্ত থাকবেন।