ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

দাকোপে ভাতার টাকা তুলে নিচ্ছে অসাধু চক্র

Published : Tuesday 31-August-2021 21:20:10 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৮:১৪:০৬ pm

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ: চালনা বাজারের বিধবা কৃষ্ণা রায়। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র প্রতিবন্ধী শিশু পুত্রকে নিয়ে পড়েন চরম আর্থিক দৈন্যতায়। বিভিন্ন জনের সহায়তায় ফুটপথে ভাজাপোড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টা তার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার প্রতি সদয় হয়ে করে দিয়েছেন একটি বিধবা ভাতার কার্ড। মোবাইল ব্যাংক নগদ অ্যাকাউন্টে তার নাম্বারে আসা ভাতার প্রথম কিস্তির ৩ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছে অসাধু চক্র।

চালনা সবুজপল্লী এলাকার বৃদ্ধ আফতাব খান। তার নিজ নামের ০১৯৮৮৭০২২১৫ নাম্বারে নগদ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা গত ২৩ জুন ২০২১ রাত সাড়ে ১০ টায় নগদের ০১৯০৬৪৯৩৪৪০ এজেন্ট নাম্বার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। টাকা উত্তোলনের পর থেকে ওই নাম্বারটি বন্ধ আছে। নিরুপায় হয়ে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১৯ জুলাই দাকোপ থানায় ৬৭৫ নং সাধারণ ডায়েরী করেছেন। দাকোপ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় পুত্রের স্কুলের উপবৃত্তির ২৮০০ টাকা নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে অনুরূপভাবে তুলে নেয়ার অভিযোগ এনে দাকোপ থানায় জিডি করেছেন। পার চালনা গ্রামের বিধুবা আমেনা বেগম। তার নগদ এ্যাকাউন্টে জমা হওয়া ভাতার সাড়ে ৪ হাজার টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ এনে গত ১৯ আগষ্ট দাকোপ থানায় ৭১৫ নং সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এভাবে দাকোপের বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও উপবৃত্তির লাখ লাখ টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপন ৫ অক্ষরের নাম্বার ব্যতিত কিভাবে অসাধু চক্র এভাবে গরীব অসহায় মানুষের ভাতা ও উপবৃত্তির টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র। এলাকাবাসীর মন্তব্য তাহলে সরকার প্রদত্ত ভাতার টাকা এমন অনিরাপদ নগদ অ্যাকাউন্টে কেন দেয়া হচ্ছে! এ ব্যাপারে নগদের খুলনা বিভাগীয় ক্লাষ্টার প্রধান সাইফুল আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের প্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করছেন তারা নিশ্চই টাকা ফেরত পাবেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে দাকোপে নগদের কোনো প্রতিনিধি এ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা তো দূরে থাক, উল্টো ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা চাইতে গেলে তাদের প্রতিনিধি হীরক করছেন দুর্ব্যবহার এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভাতা বা উপবৃত্তির টাকা ঢোকার পর ২/৩ দিন পর্যন্ত ওই চক্রটি অপেক্ষা করে। এ সময়ের মধ্যে সুবিধা ভোগী অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ক্যাশ আউট না করলে এরপর ঘটছে এমন ঘটনা।