ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

দাকোপে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Published : Tuesday 07-September-2021 21:44:50 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৯:২৮:৩৬ pm

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ: বিয়ের ৬ মাসের মধ্যে শশুর বাড়ি থেকে লাশ হয়ে ফিরলো জাকিয়া সুলতানা। স্বামী পরিবার বিষয়টিকে আত্মহত্যা, তবে নিহতের পরিবারের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশ বলছে, ময়না তদন্ত রিপোট আসলে জাকিয়ার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন হবে।

দাকোপ উপজেলা সদর পানখালী ইউপির হোগলা বুনিয়া গ্রামের গোলাম রসুল শেখের কন্যা জাকিয়া সুলতানা (২০)কে ৬ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় উপজেলার কামারখোলা গ্রামের রুহুল আমিন গাজীর পুত্র খানজাহান গাজীর সাথে। বিয়ের পর থেকে সুখেই কাটছিলো তাদের দাম্পত্য জীবন। প্রতিবেশীরা জানায়, স্বামী শ^শুর শাশুড়ি নিয়ে হাসি আনন্দেই ছিল নববধূ জাকিয়া। এরই মাঝে গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে জামাই খানজাহান মোবাইল ফোনে জাকিয়ার পিতা রসুল শেখকে জানায়, জাকিয়া গুরুত্বর অসুস্থ তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। রসুল শেখ হাসপাতালে এসে জানতে পারে, তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং ডাক্তার মৃত্যু ঘোষণা করায় খানজাহানের পরিবার লাশ নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। পথিমধ্যে রসুল ট্রলার ঘুরিয়ে মেয়ের লাশ গ্রহণ করে। বিষয়টি সে তাৎক্ষণিক দাকোপ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত শেষে জাকিয়ার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। রসুল শেখসহ তার পরিবারের অভিযোগ,আমরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কেন তারা তড়িঘড়ি করে লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল, ঝুলন্ত দেহ কেন পিতা পুত্র ছাড়া পুলিশ বা অন্য কাউকে দেখার সুযোগ দেয়া হলো না ? তাদের দাবি, জাকিয়ার মুখ এবং শরীরের একাধিক স্থানে লালচে দাগ ছিল। তবে খানজাহানের পরিবার এমন চিহ্ন থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

জাকিয়ার শশুর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭ টার দিকে স্বামী খানজাহান ধান ক্ষেতে যায়। একই সময় তার পিতা রুহুল আমিন গাজী পুত্রবধূ জাকিয়ার দেয়া ভাত খেয়ে পুকুরে মাছ মারতে যায়। এরই মাঝে খানজাহান বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে জানালা দিয়ে দেখতে পায় জাকিয়া ওড়নায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলছে। তখন সে লাথি মেরে দরজা খুলে চিৎকার দিয়ে বাবাকে ঘরে ডেকে নিয়ে তার সহযোগিতায় জাকিয়ার দেহ নামায়। পরবর্তীতে প্রতিবেশী স্বজনদের সহায়তায় ট্রলার যোগে উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। তবে কাঠের ফ্রেম টিনের যে দরজায় লাথি মেরে খোলার দাবি তারা করেছে, সেখানে দরজার ছিটকানি বা অন্য কোনো অংশে সামান্যতম ক্ষতির কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে খানজাহানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা তার পিতা রুহুল আমিন গাজী এবং প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের স্বামী স্ত্রী বা সংসারে কোনো ধরনের ঝগড়া বিবাদের কথা কেউ কখনো শুনেনি। এমনকি ওই রাতেও স্বামী স্ত্রী একসাথে স্বাভাবিক ভাবে ছিল।

তবে, ঘটনার ২ দিন আগে জাকিয়ার শাশুড়ি তার একমাত্র জামাই কামরুলের বাড়িতে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেখানেই রয়েছে। জাকিয়া সুলতানা ছিল খানজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী। আত্মহত্যা সর্ম্পকে জানতে চাইলে দাকোপ থানার ওসি তদন্ত আশরাফুল ইসলাম বলেন, মৃতের পিতা গোলাম রসুল প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মৃতের পরিবার এবং স্বজনদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই সময়ে খানজাহানের কল লিস্টের কথোপকথন প্রকাশ পেলে রহস্য উন্মোচন হবে এমন দাবি তাদের।