ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

দাকোপের অপহৃত স্কুলছাত্রী ছয় মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার, যুবক আটক

Published : Wednesday 02-June-2021 21:37:17 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ১৪:৫০:৩৭ pm

আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপের কৈলাশগঞ্জ থেকে ৮ম শ্রেণি পড়–য়া এক মুসলিম ছাত্রীকে অপহরণ করে একই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবক সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশ। ঢাকার কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় রেখে ভয় দেখিয়ে মাসের পর মাস তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ৯৯৯ নম্বরে কিশোরীর ফোন পেয়ে কদমতলী ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে  গ্রেফতার করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও দাকোপ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দাকোপের কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর বিনাপানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর এক মুসলিম ছাত্রীকে একই এলাকার মৃঃ উপেন মন্ডলের বখাটে পুত্র সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশ (২০) গত ১৭ নভেম্বর ২০২০ অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে খুলনায় এরপর ঢাকার কদমতলী থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আটকে রাখে। এ সময় ভিকটিমকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। গত ০৯ মে ২০২১ উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত সঞ্জয় তাকে জিম্মি করে অমানুসিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করে। দীর্ঘ ৬ মাস ২২ দিন পর কদমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় দাকোপ থানার এস আই মল্লিক আঃ হালিম ঢাকা পোস্তগোলার ভাড়া বাসা থেকে কিশোরী ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।

জানা যায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর ৮ম শ্রেণির ওই ছাত্রী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে তার পিতা মেয়ে হারিয়ে গেছে মর্মে দাকোপ থানায় একটি অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর পুলিশ ও পরিবার কিশোরীর সন্ধান করতে থাকে। জানা যায় ঘটনার দিন সঞ্জয় তাকে  মোটর সাইকেল যোগে তুলে নিয়ে প্রথমে খুলনা শহরে এরপর ঢাকার পোস্তগোলায় নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৯ মে ভিকটিম গোপনে সেখানকার প্রতিবেশী এক নারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯ নাম্বারে পুলিশের কাছে ফোনে তার জিম্মিদশার কথা জানিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায়। এরপর দাকোপ থানা পুলিশ এবং কদমতলী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করে দাকোপে নিয়ে আসে। ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় সঞ্জয়ের নাম উল্লেখসহ আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেন।  ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা করালে সেখানে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ দিকে গত ১২ মে সঞ্জয় ঘটনা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন ভিকটিম ২২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আঃ হালিম জানিয়েছেন তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।



আরও খবর