ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

ড্রাগনে কোটিপতি কালীগঞ্জের সফল চাষি সুরত আলী

Published : Monday 28-June-2021 21:37:21 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:৫৪:৫২ am

জামির হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ২০১৭ সালে মাত্র এক একর জমিতে সাত শত খুটি দিয়ে শুরু করেছিলেন বিদেশি ড্রাগনের ফলের চাষ। এর মাত্র এক বছর পরেই সেই ড্রাগনে দেখা দেয় সফলতা। এরপর চার বছরেই খুঁজে পায় আকাশ ছোঁয়া অভাবনীয় সাফল্য। কাজের প্রতি আন্তরিকতা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলেই ড্রাগন ফল চাষী সুরত আলী এখন কোটিপতি। পরিচিত ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নতুন নতুন ফলের চাষ করেও তিনি আলোচিত হয়ে উঠেছেন। তার চাষ পদ্ধতি আর সফলতায় এখন এলাকার কৃষকদের মাঝে হয়ে উঠেছেন এক আদর্শ কৃষক।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন শিবনগর গ্রামের মৃত মনিরুদ্দীন মন্ডলের ছেলে ফলচাষি সুরত আলী জানান, চার বছরের ব্যবধানে এখন তার প্রায় ১০ একর জমিতে পাঁচ হাজার খুটি দিয়ে ড্রাগন চাষ করছে। এরই পাশাপাশি তার আরো প্রায় চার একর জমিতে রয়েছে ভিয়েতনামের শরিফা, সৌদি খেজুর, কফি, এ্যাভোকোডা, মালটা, বিভিন্ন দেশি বিদেশি আম ও উন্নত জাতের লিচুর চাষ। এসব নানা প্রজাতির দেশি বিদেশী ফলের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন বানিজ্যিক ফলের বাগান। যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার বাগান থেকে বছরে খরচ বাদে লাভ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার বিশাল এরিয়ায় গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন এই বাগান দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তারা তার বাগান পরিদর্শন করছেন।

সুরত আলী জানান, তার স্বপ্ন ছিল ড্রাগনসহ একটি বিদেশি ফলের বাগান করবেন। সেই ইচ্ছা থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবরে এক একর জমিতে শুরু করেন ড্রাগনের চাষ। মাত্র এক বছরের মাথায় স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়। সফলতা আসতে শুরু করে। দ্বিতীয় বছর ধারণার থেকে অনেক বেশি ফল আসে, যা বিক্রি করে বেশ লাভ হয়। ফলে এ চাষ আরো বৃদ্ধি করে। বর্তমানে তার ড্রাগনসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ফলজ বাগান গড়ে তুলেছে।

সুরত আলী জানান, প্রথমে সে প্রায় ১০ লাখ টাকা ইনভেষ্ট করে। সেখান থেকে ১৮ মাস পরে ফল আসা শুরু হয়। এখন তার বাগানে ৫ হাজার খুটি আছে। এরমধ্যে চার হাজার খুটিতে ফল আসছে। সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও চারা বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার। এরমধ্যে শ্রমিক, সার ও ব্যবস্থপনায় বাবদে খরচ হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ড্রাগন একটি বহু বর্ষজীবী টেকসই ফল। খুটি পদ্ধতিতে একটি খুটিতে চারটি চারা রোপণ করতে হয়। রোপণের পর ফল আসতে সময় লাগে মোটামুটি ১৮ মাস। ফল আসা পর্যন্ত খুটি প্রতি খরচ পড়ে গড়ে এক হাজার টাকা। একটি খুটিতে এক বছরে গড়ে পঁচিশ থেকে তিরিশ কেজি ফল উৎপাদিত হয়। যার বাজার মূল্য গড়ে দুইশত টাকা কেজি হলে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা হয়। ড্রাগন ফলের মৌসুম শুরু হয় এপ্রিল মাস হতে আর একটানা নভেম্বর মাস পর্যন্ত কয়েক দফায় ফল আসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায় ড্রাগন তোলা যায়। এক নাগাড়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস ফল সংগ্রহ করা যায়। ড্রাগন গাছে মূলত জৈব সার ও সেই সাথে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার এবং পিঁপড়া দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস অফিসার শিকদার মোহায়মেন আক্তার জানান, সুরত আলীর ফল চাষ পদ্ধতি প্রসংসার দাবি রাখে। বিদেশি ফল ড্রাগন লাভজনক হওয়ায় অনেকে এখন সুরত আলীর কাছ থেকে চারা নিয়ে রোপণ করছে। তিনি জানান, ক্যাকটাস গোত্রের এই ফলের গাছ দেখে সবাই একে সবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। সাধারণত মধ্য আমেরিকায় এ ফল বেশি পাওয়া যায়। ড্রাগন ফল দেখতেও খুব আকর্ষণীয়। এর স্বাদ হালকা মিষ্টি। আমেরিকাসহ এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশে বাণিজ্যিক ভাবে ড্রাগন ফল চাষ হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকায় এ ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো। এতে  প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে। যে কারণে শরীরের চর্বি কমায় ও রক্তের কোলেস্টেরল কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

সফল চাষি সুরত আলীর বাগান তৈরিতে কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 



আরও খবর