ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ১০ কার্তিক ১৪২৮

ঝিকরগাছায় বিএনপি নেতার ছেলে মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক !

Published : Wednesday 09-June-2021 22:11:19 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ০৯:২৮:৫০ am

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা: যশোরের ঝিকরগাছায় বিএনপি নেতার ছেলে ফারুক হোসেনকে উপজেলা মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে । এ কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় আওয়ামী নেতৃবৃন্দ। হাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং জেলা মৎস্যজীবীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকালে নেতৃবৃন্দের কাছে প্রেরিত এ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক আতাউর রহমান মিন্টু, অন্যতম নেতা নুরুল আমিন মধু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর জেলা মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক আবু তোহা ও সদস্য সচিব সেলিম রেজা বাদশা গত ১জুন ঝিকরগাছা উপজেলা মৎস্যজীবীলীগের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। ওই কমিটির আহবায়ক ফারুক হোসেন হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মোকারম হোসেনের ছেলে। মোকারম হোসেন ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা। ফারুক হোসেনের দাদা মান্দার মোড়ল মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। ফারুক হোসেনের মা জীবননেছা বিএনপি জোট আমলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহিলা ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফারুক হোসেন ও তার পরিবার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। আগে কোনোদিন ওই পরিবারের কেউ আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে দেখা যায়নি। তাকে আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগের উপজেলা কমিটির আহবায়ক করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং অবিলম্বে ওই কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

বিষ্ণুপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, কোনো খোঁজখবর না নিয়েই ফারুককে উপজেলা মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনীতি করে আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। তাই ওই কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।

সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম জানান, দেশ বিরোধী বিতর্কিত ব্যক্তির ছেলেকে আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের পদ দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দলের নেতারা কত নিচে নামলে এমন কলঙ্কিত কাজ করতে পারে, সেটা এখন ভাবার বিষয়।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক আতাউর রহমান মিন্টু জানান, বিতর্কিত ব্যক্তির ছেলেকে দলের অঙ্গসংগঠনের পদে নিয়ে আসা আমাদের জন্য লজ্জার ও দুঃখের। একটা কমিটি দেয়ার আগে যাদের নেতা নির্বাচিত করতে হবে, তাদের সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেয়ার পরে তাকে পদ দেয়া উচিত। এছাড়া আওয়ামী লীগের তো আর নেতাকর্মী সংকট পড়েনি যে, বিএনপি পরিবারের ছেলে আওয়ামী লীগের পদ দিতে হবে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোস্তফা আসাদুজ্জামান জানান, ছবি সংযুক্ত স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবো। তবে কোন খোঁজখবর না নিয়ে এমন একজন ব্যক্তিকে কমিটির প্রধান করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান তিনি।