ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

চৌগাছার এইচএম ব্রিকস নিয়ে কী হচ্ছে !

Published : Monday 14-June-2021 21:52:44 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:৪৩:২৫ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের চৌগাছার কমলাপুরের এইচএম ব্রিকস দুইজন মালিকানা দাবি করছেন।

ভাটার এক সত্ত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমান বলছেন, অর্ধেক অংশের মালিক গোলাম রসুল সম্পূর্ণ ভাটা দখল করে নিয়েছেন তার বাহিনী নিয়ে। ভাটায় গেলে খুন জখম করবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। সোমবার চৌগাছা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মাহাবুবুর রহমান।

তবে অংশীদার গোলাম রসুল জানান, এ ভাটার অর্ধেক অংশ তিনি প্রথমে ক্রয় করছেন। যার কাগজপত্র তার কাছে আছে। বাকি অর্ধেক ক্রয় করার জন্য এর মধ্যে মাহাবুবুর রহমানকে অনেক টাকা দেয়া হয়েছে। যার কাগজপত্র থানায় জমা দেয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে এইচ এম ব্রিকসের সত্ত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ২০১৫ যশোরের চৌগাছার কমলাপুর মোড়ে ৭ একর জমির উপর এইচএম ব্রিকস নামে একটি হাওয়া ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করে আসছেন। ইট ভাটার ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট রেজিস্টেশন, আয়কর, ফায়ার লাইসেন্সসহ সমুদয় কাগজপত্র তার নিজের নামে। একই সাথে তিনি ভাটার সমুদয় কাগজপত্রের আয়করের টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়মিতভাবে পরিশোধ করেছেন। কিছুদিন আগে তার একমাত্র ভাই হাবিবুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং পিতা মাতা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করাসহ নানাবিধ অসুবিধার কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই সময় ভাটাটি বন্ধ হবার উপক্রম হয়। ২০১৯ সালে ২২ জুলাই চৌগাছার চাঁদপাড়ার গোলাম রসুলের সাথে একটি চুক্তিনামা করে অংশীদার নেন। চুক্তিপত্রে ইটভাটার সকল প্রকার কাগজপত্র, লাইসেন্স এবং ভাটায় ব্যবহৃত জিনিসপত্রের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। ভাটা পরিচালনার সুবিধার্থে ভাটার মূল্য ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করে অর্ধেক শেয়ার গোলাম রসুলকে দেয়া হয়। একই সাথে ২০ লাখ টাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য রেখে দেয়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে পারিবারিক সমস্যার কারণে ইট ভাটায় নিয়মিত যেতে পারতেন না তিনি। ভাটার অংশীদার গোলাম রসুল নিজেই পরিচালনা করতেন। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর শেষে মাহাবুবুর রহমান ভাটার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে গোলাম রসুল কাল ক্ষেপন করতে থাকে। একপর্যায়ে গোলাম রসুল তাকে ভাটার হিসাব দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। 

তিনি বলেন, বর্তমানে গোলাম রসুল একদল সন্ত্রাসী রেখে নিজেই ভাটা দখল করে পরিচালনা করছেন। ভাটায় গেলে তাকে হত্যার হুমকি ও ভাটার অফিসে বসতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে চৌগাছা থানায় জিডি করা হয়। জিডির তদন্ত করে পুলিশ গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরপরও গোলাম রসুল হিসাব-নিকাশ না দিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি প্রতারণার মাধ্যমে ভাটা দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে পিবিআই তদন্ত করে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গোলাম রসুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আগে সালিশ মীমাংসা হয়। নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভাটার দায়িত্ব তার নিকট হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করে সে গোলাম রসুল জোর পূর্বক ভাটা দখল করে রেখেছে। তিনি ভাটাটি ফেরত পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।



আরও খবর