ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

চোখের সামনে মেয়ে ও শাশুড়ির মৃত্যু দেখলেন সুজায়েত

Published : Thursday 09-September-2021 22:32:40 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১৩:১৩:৪৯ pm

বিল্লাল হোসেন: যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের সুজায়েত সরদার স্ত্রী সন্তান ও তার শাশুড়িকে নিয়ে আকিকার দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। সুজায়েত ও তার স্ত্রী বিলকিস ভ্যানের সামনে, পিছনে ছেলে- মেয়ে ও মাঝে বসেছিলেন তার শাশুড়ি। হঠাৎ করে তাদের বহনকারী ভ্যানে সজোরে ধাক্কা মারলো একে ট্রাভেলস পরিবহনের একটি বাস। চোখের সামনে শাশুড়ি জাহানারা বেগম (৬০) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের (২২) মৃত্যু দেখলেন সুজায়েত। টায়ারের নিচে শাশুড়ি-মেয়ের চাপা পড়া দৃশ্য দেখে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে যশোর খোলাডাঙ্গা রেলক্রসিং এলাকার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

নিহত জাহানারা বেগম (৬০) যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের গফুর মোড়লের স্ত্রী। আর সুমাইয়া আক্তার (২২) সুজায়েত সরদারের মেয়ে। শুক্রবার সকালে তাদের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় আহত ভ্যান চালক সিরাজসিংহা গ্রামের সাধন দাসের ছেলে উত্তম দাস (৪৩) ও নিহত সুমাইয়ার ভাই মামুন (২৪) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সুজায়েত সরদার জানান, যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার বাসিন্দা ভগ্নিপতি মিলনের বাড়ি আকিকার দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার সব শেষ হয়ে গেলো। কথা হয় নিহত সুমাইয়ের মা বিলকিসের সাথে। মা- মেয়েকে হারিয়ে তিনি শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বেপরোয়া বাস আমার মা-মেয়েকে কেড়ে নিলো। সরেজমিনে দেখা গেছে, একে ট্রাভেলসের  (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৬৬১১)  টায়ারের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে সুমাইয়ার লাশ। তাকে ঘিরে স্বজনরা হাউমাউ করে কাঁদছে।

যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব কবির জানান, চাঁচড়া থেকে ভ্যানে করে নাতনীদের নিয়ে শহরে আসছিলেন জাহানারা বেগম। ভ্যানটি ধর্মতলা রেলক্রসিংয়ের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এসময় দ্রæত গতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নানী-নাতনী। স্থানীয়রা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর যাত্রীবাহী বাসটির চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। পরে বাসটি জব্দ করে যশোর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যশোর হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন জানান, বিনা ময়নাতদন্তে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে রাতে নানী-নাতি লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর এক হৃদয় বিদায়ক ঘটনার সৃষ্টি হয়।



আরও খবর