ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ৯ কার্তিক ১৪২৮

চিকিৎসকের রোষানলে হাত হারাতে হলো কলেজছাত্রের !

Published : Saturday 09-October-2021 22:05:20 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:১০:৩৮ am

বিল্লাল হোসেন: যশোর মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রউফের রোষানলে পড়ে কলেজ ছাত্র আল আমিনের (২০) হাত হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের  অভিযোগ, ওই ডাক্তারের কথা মতো নিজের প্রাইভেট হাসপাতালে না নেয়ায় সরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় সঠিক প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে আলআমিনের হাতটি কাটা পড়েছে।

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান জানান, তার ছেলে আল আমিন গত ৩০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে থ্রি হুইলারযোগে শহরের দড়াটানার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। এ সময় চুড়ামনকাটি বাজারের অদূরে হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আল আমিন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক-সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তাকে দেখভাল করেন হাসপাতালে দায়িত্বরত মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রউফ। দুর্ঘটনায় হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার সাথে শিরা কেটে গেলেও পরীক্ষা-পরীক্ষা না করেই ডাক্তারের

নির্দেশনায় হাতে প্লাস্টার করা হয়। স্বজনদের পক্ষে ডা. আব্দুর রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদেরকে বলেন, রোগীর অপারেশন করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে জেনারেল হাসপাতালে ওই অপারেশন করা যাবেনা। হাসপাতালে করলে দেরি হবে। আর দ্রুত অপারেশন করতে হলে বাইরে করতে হবে। এক প্রকার তার নিজস্ব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রেলরোডে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। রোগীকে সেখানে না নেয়ায় বেজার হন ওই চিকিৎসক। এরপর থেকে চিকিৎসায় গড়িমসি শুরু হয়। হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার সাথে শিরার সমস্যা হলেও হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর (২ সেপ্টেম্বর) রেফার্ড করেন তিনি।

আনিসুর রহমান আরও জানান,  তার ছেলেকে ঘিরে ডা. আব্দুর রউফ বাণিজ্যের ধান্দা করেছিলেন। কিন্তু মাছ না পেয়ে ছিপে কামড় দেয়ার মতো অবস্থা করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর আল আমিনকে নিয়ে যাওয়া হয় এনআইসিভিডি হাসপাতালে। তখন রোগীকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেখানকার এক চিকিৎসক। তিনি মন্তব্য করেছিলেন ডা. আব্দুর রউফের মতো একজন চিকিৎসক রোগীর এমন অবস্থায় কিভাবে দুই দিন আটকে রাখলেন এটা তার বোধগম্য নয়। রোগী আনতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন। সময় শেষ, কিছু করার নেই। হাত কেটে ফেলতে হবে। সেখান থেকে রোগীকে ঢাকার পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন। ওই দিন বিকেলে প্রথম  অপারেশন করা হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অপারেশনে আলআমিনের হাত কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা।

আসিনুর রহমান জানান, তার একমাত্র ছেলের হাত কেটে ফেলার জন্য একমাত্র যশোরের ডা. আব্দুর রউফ দায়ি। তার অপচিকিৎসার কারণেই আলআমিনের অঙ্গহানি হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি  ডা. আব্দুর রউফের বিরদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। আল আমিনের অন্য স্বজনরা জানিয়েছেন, ডাক্তার আব্দুর রউফ যদি রোগীর শিরা কাটা দেখে তাৎক্ষণিক ঢাকায় রেফার্ড করতেন তাহলে হয়তো হাত কাটা পড়তো না। হাসপাতালে আনার সাথেই ভালো ভাবে দেখভাল না করে হাতে ব্যান্ডেজ করার কারণে মাংশে পচন ধরে। দুই দিন পর প্লাস্টার খোলার পর অবস্থা খারাপ দেখে দায় এড়ানোর জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন ডা. আব্দুর রউফ। পচনের কারণেই হাতটি কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন ঢাকার চিকিৎসকরা। তবে ঘটনার পরের দিন অপারেশন করা হলেও এই ক্ষতি হতো না। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমিন জানান, ডাক্তারের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে আমাকে। অপচিকিৎসার ঘটনায় জড়িত চিকিৎসককের শাস্তির দাবি করেছেন আল আমিন। এই বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য কয়েকবার কল করা হয় ডা. আব্দুর রউফকে। দুই বার লাইন কেটে দেয়া হলেও তৃতীয়বার কল রিসিভ করে অন্য একজন। পরিচয় জানতে চাইলে জানান তার নাম শাওন। তিনি স্যারের অ্যাসিস্টেন্ট। স্যার অপারেশনে আছেন। 

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, ডা. আব্দুর রউফের অপচিকিৎসায় কলেজ ছাত্রের হাত কাটা পড়ার বিষয়টি জানা নেই। পরিবারের কেউ অভিযোগ করেননি। বিষয়টি শুনলাম, খোঁজ নিয়ে দেখবো।