ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

খননে যৌবন ফিরেছে ডুমুরিয়ায় পশ্চিম সালতা নদীর

Published : Thursday 20-May-2021 21:24:40 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ১৩:৫৩:১৩ pm

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : অযত্ম আর অবহেলায় পড়ে থাকা এককালের খর¯্রােতা পশ্চিম সালতা নদী অবশেষে তার যৌবন ফিরে পেয়েছে। পুনঃখননের মধ্যদিয়ে নদী ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক গতি। আর এতে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নদীর তীরবর্তী কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।

জানা যায়, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পশ্চিম সালতা নদীটি ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বয়ারশিং-তালতলা নদী হতে উৎপন্ন হয়ে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে গ্যাংরাইল নদীতে মিলেছে। এ নদী দিয়ে দুই উপজেলার কয়েকটি বিলসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশিত হয়। এক সময় এই নদীপথে ট্রলার বড় বড় লঞ্চ ও কার্গো চলাচল করতে দেখা গেছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে ৯০ দশকের পর থেকে জোয়ারে আসা পলি জমে ক্রমন্বয় নদীটি ভরাট হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রাণ হারানো পশ্চিম সালতা নদী মরুভূমি ও গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দখলেও চলে যায় নদীর অনেক জমি। ফলে খোর¯্রােতা সালতা তার প্রশস্থতা হারিয়ে একটি নালায় পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশিত হতো না এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় সেচ সুবিধাও ব্যাহত হতো। একদিকে নদীর দুই পাড়ের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে স্থানীয় জনসাধারণ পানি বন্দি হয়ে পড়তো, অন্যদিকে এ জনপদের মৎস্য ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছিলো। যার প্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২০২১’ নামে একটি মহাপরিকল্পনার অধীনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত ‘৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দে পশ্চিম সালতা নদী ০.০০ হতে ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতোমধ্যে নদীটি খনন প্রায় শেষের পথে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি হওয়ায় সারা বছর পানির প্রবাহ বজায় থাকবে এবং জলাবদ্ধতার হাত থেকে রেহাই পাবে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা। এছাড়াও প্রকল্পটির আওতায় নদী খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে বনায়ন কর্মসূচি রয়েছে যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। দু’পাড় দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৪০০টি বৃক্ষের চারা রোপন করা হবে।

খোরেরাবাদ গ্রামের কৃষক জয়নাল খান জানান, ‘নদী খননের ফলে বন্যার পানি থেকে মুক্ত হয়েছে এলাকাবাসী। আগে ফসলি জমি ছাড়াও আশপাশ এলাকাগুলো সামান্য পানিতে তলিয়ে যেতো। নদী স্বাভাবিক হওয়াতে সেই সমস্যা কেটে গেছে।’ এলাকার মৎস্য চাষি হায়দার বিশ^াস জানান, ‘নদী খনন হওয়াতে এখন শুষ্ক মৌসুমেও অনেক পানি। এ বছর নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে অনেকের আয় রোজগার বেড়েছে।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম জানান, ‘নদী পুনঃখনন সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনা। নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পতিত ও অনাবাদী জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসতে বিশেষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। পশ্চিম সালতা পুনঃখননের ফলে নদী একদিকে ফিরে পেয়েছে নাব্যতা অন্যদিকে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। নদী এখন দৃশ্যমান। তিনি বলেন, চিংড়ি ও ধান চাষের সুবিধার্থে এবং আম্পানের আগাম অতি বৃষ্টির জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নদী খনন কাজ সাময়িক বন্ধ রেখে বিকল্প চ্যানেল দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিলো। যে কারণে খনন কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়। ইতোমধ্যে ৯৫% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে বাকিটুকু হয়ে যাবে।’



আরও খবর