ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১২ এপ্রিল , ২০২১ ● ২৯ চৈত্র ১৪২৭

কেমন গেলো লকডাউনের প্রথমদিন : কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

Published : Monday 05-April-2021 22:30:08 pm
এখন সময়: সোমবার, ১২ এপ্রিল , ২০২১ ১১:৫২:৩৫ am

স্পন্দন ডেস্ক : করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের টানা লকডাউন শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার। লকডাউন বিষয়ে সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। জরুরি সেবা বলতে যেগুলো বুঝায় সেগুলো ছাড়া বাকি সবকিছুই পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে লকডাউন চলাকালিন যশোরসহ বিভিন্নস্থানে সাধারণ মানুষের চলাচল বেশ উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য করা গেছে। কেউ অফিসগামী, কেউ জরুরি সেবা নিতে, আবার নানাকাজে পায়ে হেঁটে মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছেন। বাইরে আসা বেশিভাগেরই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকালেও ছোট ছোট যানবাহন চলতে দেখা গেছে। তবে সড়কে সড়কে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারীও ছিল। বিভিন্নস্থানে লকডাউনের নিয়ম অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করতেও দেখা গেছে। বিস্তারিত রিপোর্টে-

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক মিরাজুল কবীর টিটো জানান, এক সপ্তাহের লক ডাউনের প্রথম দিনে যশোরের দোকানপাট বন্ধ ছিল। গণপরিবহনও চলাচল করেনি। তবে অনেক দোকানীকে শার্টার বন্ধ করে লুকোচুরি খেলতে দেখা গেছে। জরুরি কাজ না থাকলেও অসংখ্য মানুষ বাইরে ছিল। বন্ধ ছিল ইজিবাইক চলাচল । সকল শপিংমল বন্ধ ছিল। এদিকে লকডাউন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ছিল তৎপর। ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা আদায় করেছে। বিকেলে জেলা প্রশাসক  সহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহর মনিটরিং করেছেন।

শহর ঘুরে দেখা গেছে লকডাউন কার্যকর করতে সকাল থেকে শহরে পুলিশ প্রশাসন তৎপর ছিল। শহরের প্রবেশ মুখ জেল রোড, সেন্ট্রাল রোড, দড়াটানা, চৌরাস্তা সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। তারপরও ইজিবাইক, অটো রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করেছে। তবে পুলিশ রিকশা ভ্যান আটকে উল্টে দেয়। আবার থানায় নিয়ে আটকে রাখে।

লকডাউন মানতে সচেনতামূলক মাইকিং করেছে পুলিশ। মাইকিংয়ে বলা হয়েছে কোন কাজ ছাড়া অপ্রয়োজনে কেউ বাইরে বের হবে না। তারপরও মানুষ শহরে চলাচল করেছে। মাছ ও কাঁচা বাজারে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিক দিনের মতই।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছেন। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান জানান, লকডাউন না মেনে বাইরে আসায় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৩ মামলায় ১১ হাজার ৪শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির সভা কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচনা হয় কাচা বাজার যে স্থানে আছে সেখানে থাকবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা  করবে, নতুবা অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুর জাহান ইসলাম নীরা ও প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত লকডাউন জোরদার করতে মাইকিং করা হচ্ছে। অনলাইনের সুযোগে কেউ দোকান খোলা রাখতে পারবে না। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিতি বাড়ানো হবে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন  পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত কাজী সায়েমুজ্জামান, জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান নুর জাহান ইসলাম নীরা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।

বাগেরহাট : সোমবার দুপুরে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে টার্মিনালের মধ্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় লোকজন রয়েছে। কেউ কেউ হেটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কেউ আবার ভ্যানযোগে যাচ্ছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়ায় যাচ্ছেন বিকল্প পরিবহনে। কেউ কেউ নিরবে বসে স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। হাল ছেড়ে বসে রয়েছেন আবার কেউ।এদিকে লকডাউনে বাগেরহাটে শহরের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ দোকানের সামনে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। কেউ খবরের কাগজ পড়ছেন, কেউ বা দিয়েছেন আড্ডা। তবে লকডাউনের প্রথম দিনে বেশিরভাগ মানুষ-ই মাস্ক পরিহিত ছিলেন। বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে বসা রাজশাহী থেকে আসা রাজমিস্ত্রি আবদুল করিম ও আনারুল বলেন, ১৫ দিন পূর্বে বাগেরহাটের সাইনবোর্ড এলাকায় আসছিলাম রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে। গতকাল (৪ মার্চ) কাজ শেষে ব্যাগ গুছিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিই। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ডে পৌছাতে বেজে যায় রাত ১১টা। এসে দেখি কোন কোনো গাড়ি নেই, বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই। সারারাত এই যাত্রী ছাউনিতেই বসে ছিলাম। ভোর থেকেই অপেক্ষা করছি যদি কোনো ব্যবস্থা হয় বাড়ি ফেরার। এরপরেও রিক্সায়, ভ্যানে, মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভাড়া ৩ গুন হওয়ায় যেতে পারছি না।

 কচুয়া উপজেলার রবিউল বলেন, খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আমার বোন ভর্তি। সকালে বের হয়ে অনেক কষ্টে বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কিন্তু কোন পরিবহন নেই। কিভাবে যাব, পন্যবহনকারী ট্রাক ও পিকআপেও চেষ্টা করেছি।

ঝিনাইদহ : সকাল থেকেই বন্ধ ছিল স্থানীয় ও দুরপাল্লার সকল প্রকার গণপরিবহন। বন্ধ সকল দোকান-পাট।

সোমবার সকাল থেকে লকডাউন কার্যকরে মাঠে রয়েছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড়, আরাপপুর, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসায় পুলিশ।  পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আবুল বাশার, ডিবি ওসি আনোয়ার হোসেন, সদর থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এসময় লকডাউনে অযথা শহরে ঘোরাঘুরি না করতে ও জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানতে নানা পরামর্শ দেন।

মাগুরা : মাগুরায় লকডাউন চলাকালে শহরের  ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছে । সোমবার দুপুরে শহরের সৈয়দ আতর আলী রোডের বেবি প্লাজার সামনে থেকে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী একত্রিত হয় । এ রোডে অনেক ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা দোকানের এক ঝাপ খুলে ব্যবসা পরিচালনা করে । এ সময় ভ্রামমান আদালত এসে তা বন্ধ করে দেয় । এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের এক কর্মকর্তার সাথে ব্যবসায়ীদের বাকবিতন্ডা হয় । ভ্রাম্যামান আদালত চলে গেছে মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে শহরে বিক্ষোভ করে । তারা বিক্ষোভ করে মেয়রের বাড়ির সামনে অবস্থান করে সীমিত পরিসরে দোকান খুলে দেওয়ার আহবান জানান ।  ব্যবসায়ীরা বলছে,সরকার লকডাউন দিয়েছে আমরা মানব ।  তবে দিনের মধ্যভাগে যদি ৩-৪ ঘন্টা আমাদেও ব্যবসা পরিচালনা করতে দেয় তাহলে আমরা কিছুটা বাচঁব । আমাদেও প্রতিটি দোকানে তিন থেকে চারজন কর্মচারী কাজ করে  তাদের প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় । এক সপ্তাহ লকডাউন থাকলে আমাদের ব্যবসা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে । শহরে ভ্যান,রিকসা,অটোরিকসা চলাচলে রয়েছে প্রশাসনের বিধিনিষেধ ।  সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে লকডাউন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন ভ্রামামান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে ।পাশাপাশি পুলিশ,ট্রাফিক ও স্কাউটের সদস্যরা কাজ করছে । দুপুরে শহরের ভায়না মোড়ে লকডাউন না মেনে যানবাহন পরিচালনা করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত অনেক যানবাহনকে জরিমানা করেছে ।   

পাইকগাছা: লকডাউনে অবাধ্য হওয়ায় দুজনকে দুদিনের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। পাইকগাছায় লকডাউন পালনে বাধ্য করতে উপজেলা প্রশাসন মাঠে নামে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী সোমবার সকালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। লকডাউন পালনে সচেতনতার পাশাপাশি বাধ্য করতে কঠোর অবস্থান নেন। এসময় তিনি পৌরসভার জিরো পয়েন্টের দোকানদার দুই ভাই আব্দুস সামাদ ও রজব  আলীকে বার বার নিষেধ করার পরও অবাধ্য হওয়ায় ২ দিনের জেল দিয়েছেন। তাছাড়া নতুন বাজার, আগড়ঘাটা বাজার, কপিলমুনি বাজারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি নির্দেশনা মানতে জনসাধারণকে সচেতনতা বাড়াতে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে।

কেশবপুর: কেশবপুরে সরকার ঘোষিত লকডাউন না মানায় ১১ ব্যক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকালে নিয়ম বহির্ভুতভাবে দোকানপাট খোলা রাখায় ১০ ব্যক্তিকে ও এক পরিবহন চালককে  ৪ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা পৃথক এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় থানার তদন্ত ওসি শেখ ওহেদুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স সহ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে লকডাউনের প্রথম দিনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন ৪ দোকানদারকে ২ হাজার টাকা এবং এক পরিবহন চালককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা ৬ দোকানদারকে ১ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লকডাউনকে কার্যকর করতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। যারা নির্দেশনা মানেননি তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাসহ সকলকে সচেতন করা হয়।

ফকিরহাট : লকডাউন কার্যকর করতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন সকাল থেকে মাঠে রয়েছে।

সোমবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তানভীর রহমান জনসচেতনা বৃদ্ধি, স্বাস্থবিধি পালন, মাস্ক পরিধান ও লকডাউনে সরকার ঘোষিত ১১ দফা নির্দেশনা পালন নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন।

উপজেলার বিশ্বরোডসংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড, মাছ ও কাচাবাজার, নোয়াপাড়া মোড়, কাটাখালি মোড় ও উপজেলা মোড়ে তুলনামূলক বেশি জনসমাগম হয়। উপজেলা প্রশাসন এসব এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে অভিযান পরিচালনা করলে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ তাদের সহায়তা করেন। এছাড়া কাটাখালি হাইওয়ে থানা পুলিশ লকডাউন কার্যকর করতে তৎপর দেখা গেছে।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তানভীর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্য সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে সরকারের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসন ফকিরহাটের কার্যক্রম অব্যাহত আছে ও থাকবে বলে তিনি জানান।

আশাশুনি :  আশাশুনি উপজেলায় ঢিলে-ঢালাভাবে লকডাউন এর প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও মোড়ে মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখাগেছে। দেখে মনে হয়েছে লকডাউন এ ঘরে থাকার কথা থাকলেও কিছু অসচেতন জনগন বেশী বেশী বাহিরে বেরিয়ে হাট-বাজার ও মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিয়ে উৎসব মূখর পরিবেশে লকডাউন এর প্রথম দিন পালন করেছেন। প্রথমদিনে স্থানীয় রুটে কোন বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইঞ্জিন ভ্যান, মোটরসাইকেল এর দখলে ছিল রাস্তাঘাট। এদিন দু’একটি বাজার ব্যতীত অধিকাংশই হাট-বাজার গুলোতে দোকান-পাট খোলা ছিল আগের নিয়মেই। এসময় অধিকাংশ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও মাস্ক পরিধানে অনীহা দেখাগেছে। এদিকে, লকডাউন সফল করতে উপজেলার কিছু হাট-বাজার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতা ছিল। উপজেলার কয়েকটি স্থানে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় লকডাউনের মধ্যে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন নির্দেশনা পালনসহ যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা এবং বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে কিনা তা তদারকিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।