ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

করোনায় স্কুল বন্ধ : কেশবপুরে ৬ মাসে শতাধিক পালিয়ে বিয়ে

Published : Wednesday 01-September-2021 21:17:00 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ২২:৫২:১৮ pm

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে স্কুল পড়–য়া ছেলেমেয়েদের পালিয়ে বিয়ে দিনদিন বেড়েই চলেছে। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকাকালে এধরনের বিয়ের হার বাড়ছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে গত ৬ মাসে শতাধিক বিয়ে হয়েছে।

করোনা মহামারি ছড়িয়ে পাড়ার কারণে গত ১৭ মাস যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বই খাতা ফেলে  অলস সময় কাটাচ্ছে। তারা দিনরাত মোবাইলে ফেসবুক, পাবজী, টিকটিক আসক্ত হয়ে উঠছে। এ শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল প্রেমের প্রবনতাও বেড়ে গেছে। সম্পর্কের দুদিন না যেতেই তারা স্কুল/বাড়ি/কলেজে এ্যাসাইন্টমেন্ট জমা দেয়ার কথা বলে পালিয়ে বিয়ে করে বসছে। গত ২৮ আগস্ট কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী উপজেলার দেউলী গ্রামের আজিজুর রহমানের কন্যা ইতু (১৫)  তার পছন্দের এক কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে বিয়ে করে। ইতু জানায়, তার মামি জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে জেনে গত ৫ আগস্ট তারা গোপনে বিয়ে করে। ৩০ আগস্ট মৃজাপুর গ্রামের শ্যামল দেবনাথের কলেজ পড়ুয়া কন্যা শম্পা (২০) পিতা-মাতার অবর্তমানে সহপাঠী তাপস দাস (২২) কে বিয়ে করে। গত ২৮ আগস্ট মৃজাপুর গ্রামের আঃ মমিন খানের কলেজ পড়ুয়া কন্যা মুরশিদা খাতুন (২২) ও সাতবাড়িয়ার নিজাম বিশ্বাসের পুত্র সহপাঠী মামুনুর রহমান (২২) রাজানগর বাঁকাবর্শি গ্রামে তাদের খালার বাড়িতে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। গত ২২ জুন চিংড়া গ্রামের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী আবুল বাশারের মেয়ে শারমিন (১৫), দোরমুটিয়ার আমিন উদ্দিন মোড়লের পুত্র সুলতান (২০)  পালিয়ে বিয়ে করে। গত ১৫ আগস্ট চাঁদড়া গ্রামের অসিকর মোড়লের স্কুল পড়ুয়া কন্যা নাদিরা খাতুন (১৬) একই গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নান মোড়লের পুত্র কলেজ পড়ুয়া জাহিদ রানা (১৮) অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যেয়ে পালিয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শরসকাটি গ্রামে মেয়ের বান্ধবী সুমাইয়ার বাড়িতে যেয়ে বিয়ে করে। গত ১ আগস্ট উপজেলার চাঁদড়া গ্রামের নোয়াবালি সরদারের পুত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম সরদার (১৬)  কোমরপোল গ্রামের নুরুল ইসলাম খাঁর মেয়ে মুলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সালমা খাতুন (১৫) বাল্যবিয়ের শিকার হয়। গত ২২ জুলাই বারুইহাটি দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া খাতুন (১৪) কে তার নানী পাত্রপাড়া গ্রামের মনোয়ার বেগম ও মামা সাহেব আলীর সহযোগিতায় পিতাকে গোপন করে বাল্যবিয়ে দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে গত ৬ মাসে প্রায় শতাধিক ছেলে মেয়ে পালিয়ে এভাবে বিয়ে করেছে।  পালিয়ে এভাবে বিয়ের পর অভিভাবকরা বাদি হয়ে থানায় মেয়েদের পক্ষে অপহরণ মামলা করেন। সেক্ষেত্রে ছেলে অভিভাবক পড়ে যায় বিপাকে, হতে হয় হয়রাণির শিকার।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, দেশে করোনায় লকডাউন চলাকালে অপ্রাপ্ত বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা বেড়েছে। বাল্যবিয়ের অভিযোগে তাদেরকে জেল/জরিমানা করেও এগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারা তথ্য গোপন করে অভিভাবকরা এভাবে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। এদের মধ্যে সচেতনতার খুব অভাব।



আরও খবর