ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

উৎসাহ ভরে টিকা নিয়েছে মানুষ

Published : Saturday 07-August-2021 21:51:50 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ২২:২৮:০৪ pm

স্পন্দন ডেস্ক : কোভিড মহামারি দমনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচিতে জেলা উপজেলায় মানুষ উৎসাহ ভরে টিকা নিয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় সারাদেশে ১৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। ৬ দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার। এই কর্মসূচি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম দিন বাদ পড়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের ওয়ার্ডে টিকা দেয়া হবে ৮ ও ৯ অগাস্ট। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের রিপোর্টে:

যশোর : শনিবার (৭ আগস্ট) যশোর জেলায় ৫৭ হাজার ২২২ জন গণটিকা গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৩১ হাজার ১০৬ জন পুরুষ ও ২৬ হাজার ১১৬ জন নারী রয়েছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮শ’ জন বেশি টিকা নিয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ।
সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, ৫৭ হাজার ২২২ টিকা গ্রহণকারীর মধ্যে যশোর পৌরসভায় ১ হাজার ৮শ’ সদর উপজেলায় ৯ হাজার জন , কেশবপুর উপজেলায়  ৫ হাজার ৪৩৭ জন, অভয়নগর উপজেলায় ৪ হাজার ৮০১ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১০ হাজার ২৩৩ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৩৪০ জন, শার্শা উপজেলায় ৬ হাজার ৮৩৫ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৭ হাজার ১৮৭ জন ও চৌগাছা উপজেলায়  ৬ হাজার ৫৮৯ জন রয়েছে।  
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, সকাল ৯ টায় যশোর উপশহর ইউনিয়নে গণটিকা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান ও সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। এসময় প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ, মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান ইমতিয়াজ ও উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিসি তমিজুল ইসলাম খান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। এসময় প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন , ইউপি চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা খুশিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ডা. রেহেনেওয়াজ আরও জানান, গণটিকা কর্মসূচি রীতিমতো উৎসবে রুপ নেয়। মানুষের সরব উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগে কার্যক্রম শেষ হয়। শার্শা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. আবু শাহীন জানান, তিনটি স্তরে সুপারভিশন টিমের সদস্যরা টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এখনো পর্যন্ত কোন টিকা গ্রহণকারীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, গণটিকার পাশাপাশি আরও ২ হাজার ৫শ’৭৯ জনকে নিয়মিত (রুটিন) টিকা প্রদান করা হয়েছে।  
উল্লেখ্য, যশোর জেলার ৯১ টি ইউনিয়নে  ৫৪ হাজার ৬শ’ ও যশোর পৌরসভার  ৯ টি ওয়ার্ডের ১৮ শ’ জনকে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চলে।

বাঘারপাড়া (যশোর) : সকাল ৯টায়  বাঘারপাড়া উপজেলার হাবুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যশোর -৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। ৭ নম্বর দরাজহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা জান্নাত, অধ্যক্ষ আজগর আলী, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আকবর আলী, মুন্সি বাহার উদ্দীন বাহার,ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন, টিপু সুলতান (ধলা) প্রমুখ। এদিন উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন কর্যক্রম চলবে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ২শ’ জন রেজিস্ট্রেশন ভুক্তরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবে। সকাল ৯ থেকে ৩টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পিন চলে। ক্যাম্প করা হয়েছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ওয়ার্ড গুলোতে। প্রতিটি কেন্দ্রে  থাকবে ৩টা করে বুথ।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গণটিকা দেয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন, পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরণসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে টিকাদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহের ৬৭ টি ইউনিয়ন ও ৫ টি পৌরসভায় এ পরীক্ষামুলক ভাবে এ টিকাদান চলে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নের ১ টি কেন্দ্রে ৩ টি বুথে টিকা প্রদাণ করা হয়।

ঝিকরগাছা : গণটিকায় যশোরের ঝিকরগাছার ৭ হাজারের বেশী মানুষ করোনার টিকা গ্রহণ করেছে। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে করোনার টিকা প্রদানে শতভাগ সফল হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রশিদুল আলম জানান, প্রত্যেক ইউনিয়নে ৬শ করে ১১টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬শ ও পৌরসভায় ৭শ টিকাসহ মোট ৭ হাজার ৩শ টিকা বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গোটা উপজেলায় ৭ হাজার ১৯০ জন মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৫০ বছরের উপরের নারী ৪ হাজার ৪শ ৪৪ জন ও তার নিচের নারী ২হাজার ৩১জন এবং  ৫০ বছরের উপরের পুরুষ ১ হাজার ৯শ ৪৩ জন ও তার নিচের পুরুষ ১ হাজার ৭শ ৬৯জন। তিনি আরো জানান, এ টিকা সিনোফার্মার। আমাদের যে টার্গেট দেয়া হয়েছিল তাতে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার অনেক আগ্রহ রয়েছে। আগামী মাসের ৭ তারিখে ২য় ডোজের টিকা প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, মানুষ টিকা নেবে কিনা তা নিয়ে প্রথমে খুব চিন্তায় ছিলাম কিন্তু মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ অনেক বেশী। আমার ইউনিয়নের প্রায় একশ’ মানুষ টিকা না নিয়ে ফিরে গেছে। আগামী মানুষ আরো বেশী আগ্রহী হবে বলে আমি আশাবাদী।

কেশবপুর: কেশবপুরে ইউনিয়ন পর্যায় গণটিকা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন শাহিন চাকলাদার এমপি। প্রথম দিনে ৫ হাজার ৪৩৭ জন টিকা গ্রহণ করেন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে গনটিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেশবপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভাকে নিয়ে ৯ টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। শনিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিনামূল্যে গণটিকা ক্যাম্পে টিকা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। এসময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন, পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ার মাহমুদ, কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবু সাঈদ লাভলু প্রমুখ।

ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে-৫৯৭, সাগরদাঁড়ি-৬০৬, মজিতপুর-৬০৪, বিদ্যানন্দকাটি-৬০০, মঙ্গলকোট-৬০০, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে-৬০৬, পাঁজিয়া-৬০৬, সুফলাকাটি-৬০৬ ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নে-৬০৬ জন টিকা গ্রহণ করেছে।

সাতক্ষীরা : সকাল ৯ টা থেকে সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রে এই গণটিকাদান দেওয়া হয়েছে। টিকা নেওয়ার জন্য কেন্দ্র গুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে দেখাগেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ছিল উপচে পড়া ভীড়। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, সাতক্ষীরা জেলায় আজকেই সর্বমোট ৮৭টি কেন্দ্রে ৪৮ হাজার ৬শ’ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ৬শ জনকে করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২শ’ জনকে টিকা দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে  টিকা দেওয়ার পর চাহিদা ও টিকাপ্রাপ্তি  সাপেক্ষে আগামী ১৪ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আবারও এই গণটিকা কর্মসূচি শুরু হবে।

মণিরামপুর : শনিবার উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১০ হাজার ৮শ’ ব্যক্তির টিকা প্রয়োগ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার অনুপ কুমার বসু জানিয়েছেন, দুপুরের ভিতরে অধিকাংশ ইউনিয়নে টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ৬শ’ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০ হাজার ৮শ’ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান, উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হরেকৃষ্ণ অধিকারী ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর টিকা কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল যেন টিকা নেওয়ার উৎসব চলেছে। সকাল থেকে জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তারা টিকা গ্রহণ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যানগণ নিজ নিজ ইউপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে টিকা গ্রহণ উৎসব উদ্বোধন করেন।

মাগুরা  : মাগুরা  জেলার ৩৬ ইউনিয়নের ৩ টি করে ১০৮ টি বুথ ও মাগুরা পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডে ৯ টি বুথসহ মোট ১১৭ টি বুথে সকাল ৯ টা থেকে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নাসিং ইনস্টিটিউটসহ দুটি বুথে দ্বিতীয় ডোজের টিকা  দেয়া হচ্ছে। সকালে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, সিভিল সার্জন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন কবিরসহ অন্যরা বিভিন্ন টিকা দান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এদিকে,মাগুরা পৌরসভার ৫, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডে সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সকাল থেকে গণ টিকা নিয়ে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। সেখানে নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি। প্রতিটি লাইনে নারী-পুরুষ গা-ঘেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বুথে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমসিম খাচ্ছেন। প্রত্যেক বুথের জন্য টিকা বরাদ্দ রয়েছে  ৩শ’ পিচ সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫-৬ শ’ জন মানুষ। রেজিস্ট্রেশন না করে অনেকে টিকা কেন্দ্রে শুধু ভোটার আইডি নিয়ে টিকা নিতে এসে পড়েছেন ভোগান্তিতে। যারা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করে টিকার কপি ও ভোটার আইডি নিয়ে এসেছেন তারাই টিকা নিতে পেরেছেন। কেন্দ্রে টিকার মজুদ কম থাকায় আবার অনেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা না পাবার ভয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, মাগুরা সদরের আঠারোখাদা ইউনিয়ন পরিষদে সরকার ঘোষিত গণটিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে স্লিপ পদ্ধতিতে। করোনা টিকা গ্রহণের নিবন্ধনপত্র হাতে থাকলে পাচ্ছেন না টিকা গ্রহণকারীরা । টিকা নিতে হলে স্লিপ লাগছে। তবে প্রথমদিন সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হলেও টিকা নিতে অনেক আগে থেকেই ২৫ বছরের উর্ধ্বে তরুণ-তরুনীদেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আঠারোখাদা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সঞ্জিবন বিশ্বাস বলেন, আমাদের ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। তিন কেন্দ্রে ২শ’ করে টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিও ৬শ’ মানুষকে টিকা দেয়া হবে।তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা,বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদেও আগে সুযোগ থাকবে। স্লিপ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্লিপ পদ্ধতি না কওে এখানে টিকা দিলে কেন্দ্রে বেশি ভিড় হয়ে যাবে যা আমাদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। যারা আমাদের সাথ যোগাযোগ করে টিকার স্লিপ সংগ্রহ করেছেন তারাই টিকা পাচ্ছেন। মাগুরা সিভিল সাজর্ন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, সারা দেশের সাথে মাগুরাতেও গনটিকা শুরু হয়েছে। মাগুরা জেলায় গ্রাম পর্যায়ে বুথ করার মাধ্যমে এ টিকা কার্যক্রম সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পযন্ত চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২শ’ জনসহ মোট ২৩ হাজার ৪শ’ জনকে এ টিকা দেয়া হবে।

শালিখা (মাগুরা) : মাগুরার শালিখা উপজেলার ৩ নম্বর আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউনয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসাবে ৬ শ’ মানুষকে করোনার টিকা প্রদানের উদ্বোধন করা হয় শনিবার। উদ্বোধন করেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মো. বাতেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ও আড়পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরজ আলী বিশ্বাস, আড়পাড়া ইউপি সচিব বিএম আব্দুর রহমান, ইউপি সদস্য শাহেদ হাসান লিটন প্রমুখ। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যায়ক্রমে শালিখার সকল ইউনিয়ন পরিষদে টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন।

দাকোপ : শনিবার সকালে দাকোপ সদর চালনা পৌর এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ্বাস। স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় দাকোপের ৯ টি ইউনিয়ন ও চালনা পৌরসভা এলাকায় একযোগে করোনা প্রতিরোধে গণটিকার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শনিবার সকালে চালনা পৌরসভা এলাকায় গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী, চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, দাকোপ থানার ওসি তদন্ত  আশরাফুল আলম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুরাইয়া সিদ্দীকা, সেনা বাহিনীর সার্জেন্ট মো. লুৎফর হোসেনসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কর্মীবৃন্দ। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানখালী ইউনিয়নের মততাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বাজুয়া ইউনিয়নের শহীদ স্মৃতি স্কুল কেন্দ্র এবং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া কেন্দ্রে গণটিকার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। কর্মসূচির আওতায় দাকোপে একযোগে ৯টি ইউনিয়ন ও চালনা পৌসভার ১০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার মানুষের মাঝে এ এ টিকার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুরে সকালে উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নে গণ-টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুল আজম খান চঞ্চল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্বাশতী শীলের সভাপতিত্বে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামিদ,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতানুজ্জামান লিটন,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ হাসিবুস সাত্তার,এসবিকে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফান হাসান চৌধুরী লুথান, এসবিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বগা,সাধারন সম্পাদক শাহাজান আলী প্রমুখ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ হাসিবুস সাত্তার জানান,উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ মোট ১৩টি কেন্দ্রে ৩৮টি বুথে ৭ হাজার ৪শ’ জনকে প্রথম দিনেই টিকা দেয়া হয়েছে।

ফুলতলা (খুলনা) :  ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে একযোগে উৎসবমূখর পরিবেশে টিকা প্রদান শুরু  হয়েছে। টিকা প্রদানকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের খুলনার উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউএনও সাদিয়া আফরিন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা, উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম, বীজ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম, শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, মাও. সাইফুল হাসান খান, শেখ আবুল বাশার, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ^াস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকনসহ ইউপি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।