ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ১০ কার্তিক ১৪২৮

আশাশুনিতে ১১ মাস পরে মূল বাঁধ সম্পন্ন

Published : Wednesday 07-April-2021 22:27:36 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ১০:৫৯:৫৪ am

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি সদরের দয়ারঘাটের খোলপেটুয়া নদীর ভেঙ্গে যাওয়া মূল পয়েন্টের ক্লোজার চাপান দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাস পরে বিকল্প রিং বাঁধের দুশ্চিন্তা ও লোনা পানির হাত থেকে রেহাই পেলো সদরের ৩ টি গ্রাম। গত মঙ্গরবার এই রিং বাঁধ ভেঙে যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে সহজে রেহায় হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও গোলাম রাব্বি হাসান জানান, মানুষের মানবেতর জীবন-যাপন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে আমরা যত দ্রুত সম্ভব বাঁধের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। মঙ্গলবার  দুপুরে ক্লোজারে বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে আটকানোর কাজ শেষ করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করে আমরা বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের ৯০ ভাগ সম্পন্ন করে দিয়েছি। এখন গোণ নেই তাই রাতে জোয়ারের পানি আর উঠবে না। বৃহস্পতিবার সকালে এই কাজ শেষ করে আমরা বাকি বরাদ্দকৃত ৫৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে স্থায়ী টেঁকসই মূল বাঁধের কাজে হাত দেবো। এছাড়া জেলেখালী গ্রামের নিমতলার ২৫০ মিটার নির্মাণ কাজে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা এবং নিমতলা থেকে মানিকখালী ব্রীজ পর্যন্ত ৭০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সে কাজও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। 

এদিকে রিং বাঁধ ভেঙ্গে যে লোনা পানি গ্রামের ভেতর ঢুকেছিল সে পানি পুকুর বা নিচু জায়গায় সেভাবেই রয়ে গেছে। বিষাক্ত পানি আর পচা মাছের দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে। মানুষের গোসল ও রান্নার পানি নেই। দ্রুত এসব পুকুরের পানি নিষ্কাশন করা না হলে পানিবাহিত রোগ বালাই লেগেই থাকবে।

আম্পানের পর থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে। সেই সময় নদী ভাঙনের ফলে দয়ারঘাট-আশাশুনি সদরের যাওয়ার প্রধান কার্পেটিংয়ের সড়কটিতে মাটি ফেলে রিং বাঁধ দেয়া হয়। কোন গাড়ি বা ভ্যান চলাচল করতে না পারলেও রাস্তাটি ভালো ছিলো। কিন্তু গত মঙ্গলবারের ভাঙনে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ১ কি.মি. রিং বাঁধের ভেতরে ৫ জায়গায় ভেঙে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পঞ্চানন বিশ্বাসের বাড়ির সামনে থেকে বলাবাড়িয়া ওয়াপদা রাস্তা পর্যন্ত ইটের সোলিংটি একেবারে ভেসে যাওয়ায় সুপেয় পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বহনে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। দ্রুত এসব রাস্তা মেরামত করা না হলে গ্রামটি দুর্গম এলাকায় পরিনত হবে। গৃহনির্মাণ করে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন বানভাসীদের

আজ বুধবার বাধের শেষ পর্যায়ের কাজ পরিদর্শনে আসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডল। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরণ চক্রবর্তী, আওয়ামী লীগ নেতা মোল্যা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ঢালী শামসুল আলম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্য, খোরশেদ আলম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে প্রতাপনগর, শ্রীঊলার মত আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট ভেড়ি বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ ১০ মাসেও বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দেয়া হয়নি। এলাকার একটি বড় অংশ বাইরে রেখে পিচের রাস্তা দিয়ে রিং বাঁধের মাধ্যমে বাকী এলাকাকে জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এ বছরের ৩০ মার্চ খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ ভেঙে পুনরায় সদর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে ভাঙ্গন কবলিত রিং বাঁধ রক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।