ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত মানসিক প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক মোস্তাক চরম সংকটে

Published : Tuesday 22-June-2021 21:56:16 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:১৮:১৬ am

নূরুল হক, মণিরামপুর : বাংলাদেশে সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মণিরামপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মোস্তাক মোড়ল আজও কোনো সহযোগিতায় পাইনি। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও ঝড়ে পড়ে যাওয়া তার কুঁড়েঘর মেরামতের জন্য পাইনি কোনো সরকারি সাহায্য।

মণিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের মাছনা গ্রামের মৃত তারাচাঁন মোড়লের ছেলে মোস্তাক মোড়ল। সে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৩/৪ শতাংশ জমির উপর একটি কুঁড়েঘরে পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনি নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও ভ্যান চালিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। মাথা গোজার একমাত্র কুঁড়েঘরটি আম্পানে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে আর বসবাস করার উপযোগী নেই। তাই বাধ্য হয়েই পরিবার পরিজন নিয়ে পাশেই এক প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে। নিজের ঘরটি কখন ভেঙে পরবে সেটা নিয়েই তার দুঃচিন্তার শেষ নেই। 

মোস্তাক বলেন, আম্পানে তার ঘরটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে আয় রোজগার অনেক কম, দু’মুঠো খাবার জোটেনা। তার উপর কয়েকদিন হলো ঋণ নিয়ে কেনা জীবিকার একমাত্র বাহন ভ্যানগাড়িটার ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। তবু অনেক কষ্ট করে ব্যাটারি বিহীন ভ্যানগাড়িটি পায়ে চালিয়ে সামান্য কিছু আয়-রোজগার করার চেষ্টা করছি। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। এ অবস্থায় ঘর মেরামত করবো কিভাবে? চেয়ারম্যান মেম্বরসহ অনেকের  কাছে সাহায্য সহায়তা চেয়েছি-কিন্তু কেউ সহযোগিতা করেনি। এখন আমার পক্ষে ঘরটি মেরামত করা কোন ভাবে সম্ভব না। যদি আপনারা বলে আমাকে কিছু সাহায্য এনে দিতে পারেন তাহলে বড়ই উপকৃত হতো।

মোস্তাকের পুত্র শফিকুল ইসলাম ও পুত্র বধু শেফালী খাতুন বলেন, আমরা ১০ টাকা চালের কার্ড করার জন্য অনেকের গিয়েছি, কিন্তু আমরা এত দরিদ্র হওয়া সত্বেও আমাদের সে কার্ডও হয়নি।

ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হাজিরা খাতুন ও  বলেন, মোস্তাকের নাম ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হয়েছিল। সেটা আসলেই তারা পেয়ে যাবে এবং সামনেই তাদের ১০ টাকা চালের কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছিল। তালিকাভূক্ত প্রায় সকলে কিছু কিছু সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু মোস্তাক মোড়লের নাম তালিকাভূক্ত হয়েছিল কি না সেটা জানা নেই। তবে এখন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। 



আরও খবর