কেশবপুরে শিশু রত্না হত্যা মামলায় দাদা অভিযুক্ত

এখন সময়: বুধবার, ১৯ জানুয়ারি , ২০২২ ১৩:২১:১৪ pm

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের কেশবপুরের আলতাপোল গ্রামের শিশু রত্না খাতুন হত্যা মামলায় দাদা ইসমাইল হোসেনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মককর্তা স্নেহাশিষ দাস। ইসমাইল হোসেন আলতাপোল গ্রামের কালাচাঁদের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নিহত শিশু রত্মার পিতা জাহিদুল ইসলাম আলতাপোল গ্রামে তার নানা কালাচাঁদের বাড়িতে বসবাস করতেন। জাহিদুল ও তার স্ত্রী শ্রমিকের কাজ করেন। ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় রত্নার মা পাশের বাড়ি ছিল। ঘরে বসে টিভি দেখছিল রত্না। বাড়ি ফিরে তিনি ঘরের আঁড়ার সাথে রতœার ঝুলন্ত লাশ দেখে চিৎকার দেন। বাড়ির অন্যরা এসে রত্নার মৃতদেহ নামিয়ে আনে। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়না তদন্ত রিপোর্টে রত্মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় পিতা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অপরিচিত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে কেশবপুর থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
মামলার তদন্তকালে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দাদা ইসমাইল হোসেনকে আটক করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা স্নেহাশিষ দাস। আসামি ইসমাইল হোসেন হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আসামি ইসমাইল হোসেন নিহত রত্মার দাদা হয়। সে পটুয়াখালির কলাপাড়ায় ভাঙড়ির ব্যবসা করে। মাঝেমধ্যে বাড়িতে বেড়াতে আসতো। ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় সে তার পাশের বাড়িতে পিতাও মার সাথে দেখা করতে যায়। এ বাড়িতে তার ভাগ্নে জাহিদুল স্ত্রী-মেয়ে নিয়ে বসবাস করত। এদিন রাতে তার পুতনি রত্মা ঘরে বসে একা টিভি দেখছিল। ইসমাইল তার যৌনাঙ্গ চেপে ধরলে রত্না চিৎকার দেয়। ইসমাইল তখন রতœার গলা চেপে ধরলে মারা যায়। রত্মার মৃত্যকে ধামাচাপা দিতে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আঁড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এ মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামির দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় আসামি ইসমাইল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনকে আটক দেখানো হয়েছে।