নিজস্ব প্রতিবেদক: মণিরামপুরের মদনপুর গ্রামের প্রতিবিন্ধী বৃদ্ধ আরিফুর রহমান হত্যা মামলায় আটক স্ত্রী শেফালি খাতুন আসমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জমি নিয়ে ঝগড়ার মধ্যে ধাক্কা দিলে মাথায় আঘাত লেগে দুর্ঘটনাবসত স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্ত্রী শেফালি। বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শেফালি নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী ও একই গ্রামের মাওলা বক্স বিশ্বাসের স্ত্রী। শেফালি খাতুন জানিয়েছেন, তার স্বামী প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমাদের ৪০ বছরের সংসার। আমরা দুইজন এক বাড়িতে বসবাস করতাম। দুই ছেলের নামে জমি লিখে দিতে চাওয়ায় দুই জনের মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। উঠে স্বামীকে ধাক্কা দিলে মাথায় আঘাত লেগে খাটের উপর শুয়ে পড়ে। সংসারের কাজকর্ম শেষে বারান্দায় এসে দেখি মরার মত পড়ে আছে। দ্রুত বাড়ির অন্যদের ডেকে আনলে তারা এসে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। দুর্ঘটনাবসত মাথায় আঘাত লেগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ত্রী শেফালি বেগম। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সন্ধ্যায় শেফালি বেগমের চিৎকারে বাড়ির লোকজন আরিফুর রহমানকে মৃত অবস্থায় বারান্দায় খাটের উপর পায়। তার কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ সংবাদ দিলে শেফালি বেগমকে আটক ও লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ হত্যার সাথে জড়িত থাকায় নিহতের স্ত্রী শেফালিকে বেগমকে আটক করে বুধবার আদালতে সোপর্দ করে। আটক শেফালি বেগম দুর্ঘটনাবসত হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।