Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

নিজ বাড়ি ফিরলেন কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমার মা ফজিলা

এখন সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন , ২০২৬, ১২:২০:৪৩ পিএম

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শরীফের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত ৭ বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম (৪৭) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফজিলা বেগম সাড়ে ৩ বছর নিখোঁজ থাকার পর তার মেয়ে শিশু ফাতেমা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শরীফের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে রোববার (১ জুন) নিহত হবার পর সেই ভিডিও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। ওইসব ভিডিও নিহত ফাতেমার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফজিলা বেগমকে দেখে তার স্বজনেরা চিনতে পেরে ছুটে আসেন বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শরীফে। পরিচয় নিশ্চিত হবার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ফজিলা বেগমের স্বামী মোমরুজ আলী, মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও জুয়েল মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার বাবা মোমরুজ আলী জানান, বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শরীফের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ছবি ও ভিডিও দেখে তারা ফাতেমা ও ফাতেমার মা ফজিলা বেগমকে চিনতে পারেন। পরে পরিবারের ছয় সদস্য বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে বাগেরহাটে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শরীফের পৌঁছান। ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন জানান, সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ফাতেমার বয়স ছিল প্রায় চার বছর। ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন জীবিত আছে। ফাতেমার বাবা মোমরুজ আলী রিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মেয়ে ফজিলাকে সাড়ে ৩ বছর পর ফিরে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত হলেও ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। ফাজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, তিন বছর আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে খুজেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনার মধ্যদিয়ে আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে। আমরা পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কবর জিয়ারত করেছি। মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম এ সময় বিড়বিড় করে বারবার একটি কথাই বলতে থাকেন ’আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে কোথাও যাব না’। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, ফজিলা বেগমের পরিবারের সদস্যরা ভিডিও দেখে চিনতে পারার পর তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর বাগেরহাট সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগমকে পরিবারের জিম্মায় আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর তারা বাগেরহাট থেকে ময়মনসিংহ রওনা হয়ে গেছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)