মণিরামপুর ও রাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মণিরামপুরের চালুয়াহাটি ইউনিয়নে শুক্রবার সকালে মাঠের একটি গাছ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শফিকুল ইসলাম (৫৭) উপজেলার ইছালী গ্রামের কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবে শফিকুলকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃতদেহ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে ময়না তদন্তের পর শফিকুলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত হবে। নিহতের স্ত্রী বকুল বেগম জানান, শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে তার স্বামী বাড়ি থেকে মাঠে যান বোরো আবাদে সার প্রয়োগের কথা বলে। পরে ডিপটিউবলের পাশের বাগানে একটি কাঁঠালগাছে শফিকুলের মরদেহ ঝুলতে থাকে। সকাল ১১ টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসী জানায়, ইছালী গ্রামের মাঠে শফিকুল ইসলামের একটি বৈদ্যুতিক ডিপটিউবয়েল (সেচযন্ত্র) স্থাপন রয়েছে। কিন্তু এ সেচযন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপর সেচযন্ত্র মালিক ওসমান গনির সাথে শফিকুলের বিরোধ চলে আসছে। নিহতের ছেলে সেনা সদস্য রিফাত ইফতেখার জানান, ইতিপূর্বে তার পিতা শফিকুল ইসলাম এবং মা বকুল বেগমকে মারপিটে আহত করে ওসমান গনি ও তার ছেলে সবুজ। অবশ্য সবুজ বর্তমান একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। নিহতের স্ত্রী আরও জানান, এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় ওমান গনির সাথে তার স্বামীর কথাকাটাকাটি হয়। স্ত্রী বকুল বেগম, ছেলে রিফাত এবং তার মামা উপজেলা বিএনপির সদস্য ফিরোজ বিশ্বাষ অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ওসমান গনি ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গাছের ডালে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তবে এ ঘটনার পর থেকে ওসমান গনি ও তার পরিবারবর্গ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।