বাঘারপাড়া (পৌর) প্রতিনিধি : আজ উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ঐতিহাসিক তেভাগা কৃষক আন্দোলনের নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী । ২০০৩ সালের এই দিনে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৭ ডিসেম্বার তার ইচ্ছনুযায়ি উপজেলা জামাদিয়া ইউনিয়নের বাকড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমাহিত করা হয়। কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালে নড়াইল জেলার আফরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হয়ে অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৩৩ সালে খুলনার বিএল কলেজে রসায়নশাস্ত্রে পড়া অবস্থায় অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন এবং একই বছর এই অঞ্চলের জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। বাবার জমিদারির বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন তাকে আরও পরিচিত করে তোলে। ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। ১৯৪৬-এর ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি পুরুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সবার বাবুদা’ হিসেবে। ১৯৪৮ সালে যশোর কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পিকিং-মস্কো ধারার বিপরীতে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন এবং তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড অমল সেনের হাতে গড়া লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নাম ধারণ করে। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। কমিউনিস্ট আন্দোলন বিষয়ে তার বেশ কয়েকটি বই রয়েছে। কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার নড়াইলের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ী বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে তার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্টলীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টি।