আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে : শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

এখন সময়: রবিবার, ৩ জুলাই , ২০২২ ০৯:৩০:০২ am

ইয়ানুর রহমান ও শেখ কাজিম উদ্দিন : যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো বাঙালি জাতির স্বাধীনতা। তিনি পাকিস্তানি পরাশক্তির সাথে ঢাল, তলোয়ার, আগ্নেয়াস্ত্র, অর্থবিহীন দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে তাঁর জাগ্রত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিলেন। বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মানচিত্র। স্বপ্ন কে না দেখে! কারো স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়, আবার কারো স্বপ্ন অকাতরে ঝরে যায়। যার ভিতর সততা, দক্ষতা, কর্মচাচাঞ্চল্যতা, দেশপ্রেম, মায়া, মমতাসহ জাগ্রত স্বপ্ন থাকে সেই-ই সার্থক হয়। যেমন স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তেমনি বঙ্গবন্ধুর চৌকস কন্যা বারবার অপরাজেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন। তিনি সার্থক হয়েছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশাল খর¯্রােতের পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করতে পারলে তা হবে বেনাপোল বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মুক্তির বাহন এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের মাইলফলক। তিনি তার সেই জাগ্রত স্বপ্নপূরণ করেছেন। তিনি পদ্মা নদীকে শাসন করে নির্মাণ করেছেন এদেশের মানুষের হাজার বছরের স্বপ্নের সেতু।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জুর সভাপতিত্বে ও যুগ্মসম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশের মানচিত্র হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বেনাপোল পোর্ট স্থাপিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। যে উন্নয়ন “স্বাধীনতা বিরোধী” বিএনপি-জামায়াতের কেউ সহ্য করতে পারে না। ৭১ পরবর্তী ওরা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের উন্নয়ন করবে। ওরা বুঝতে পেরেছিলো বঙ্গবন্ধুর ঔরস বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে আর দুর্ভিক্ষ থাকবেনা। তাই ওরা জাতির পিতাকেসহ তার বংশকে ধ্বংস করতে মিশন নিয়েছেলো। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণীত অধ্যায় রচনা করতে হত্যা করেছিলো জাতির বিবেককে।

অনুষ্ঠানের পূর্বে প্রথম প্রহরে শার্শা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে বলফিল্ড মাঠে বিশাল জনসভায় দলীয় নেতা-কর্মীদৈর নিয়ে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতিক বেলুন ও পায়রা ওড়ান। বেলা ১১ টার সময় বেনাপোল স্থলবন্দরের টার্মিনালে সহ¯্রাধিক শ্রমিকের মাঝে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুপ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ অনুষ্ঠানে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের পা ফাটা গা ফাটা মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করছেন। তিনি, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, অন্নসহ দেশের উন্নয়নের কথা ভাবেন। যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। আজ তারই নজীর হিসেবে বেনাপোল বন্দর শ্রমিকদের বুস্টার ডোজ দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একদল স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মকর্তা নিয়ে আমিসহ শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছি। জনগণের প্রতি এমন ভালোবাসা আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া আর কোন সরকার এমন ভাবতেই পারেনা।

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের বিবিধ উন্নয়নের কথা বলেন।

এসকল অনুষ্ঠানে তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে চিহ্নিত করে দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহবান জানান। বলেন, আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত হলে মানবতার ফেরিওয়ালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে। তখন দেশে আর অভাব থাকবে না। আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের মানুষ হবে উন্নত দেশের বাসিন্দা।

আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আনোয়ার আলী আনু, যশোর জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা আলম সালমা, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, শার্শা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন তোতা, উলাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আয়নাল হক, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান ও বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইলিয়াছ কবির বকুল।

এসকল অনুষ্ঠানমালায় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার, পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন ভুইয়া, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ সালেহ আহমেদ মিন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ বজলুর রহমান, কায়বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত আলী, নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল, পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান, আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহাতাব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আকবার আলী, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আহাদুজ্জামান বকুল, সদস্য জসীম উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।